এমবাপ্পে আসবেন কি আসবেন না, তা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষায় আছেন রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা। এর মধ্যেই লিগের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রিয়াল। প্রতিপক্ষও ছিল বেশ শক্তিশালী, রিয়াল বেতিস। তবে বেতিস কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি। রিয়াল মাদ্রিদ জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে। দানি কারভাহালের গোল নিশ্চিত করেছে পূর্ণ তিন পয়েন্ট।

যথারীতি ৪-৩-৩ ছকে খেলতে নামে রিয়াল মাদ্রিদ। গোলকিপার থিবো কর্তোয়ার সামনে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুটি বেঁধেছেন ডেভিড আলাবা ও এদের মিলিতাও, দুই ফুলব্যাক হিসেবে খেলেছেন দানি কারভাহাল ও মিগেল রদ্রিগেজ।

মাঝমাঠে চোটের কারণে যথারীতি টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচ ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে ব্রাজিলিয়ান রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার কাসেমিরোর সঙ্গে নামানো হয় উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে ও স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইসকোকে। আক্রমণভাগে করিম বেনজেমার দুপাশে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও গ্যারেথ বেলকে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

প্রথম থেকেই বেনজেমা ও ভিনিসিয়ুসের কল্যাণে বেশ কিছু সুযোগ পায় রিয়াল। ওপর পাশে গ্যারেথ বেল বরং নিষ্প্রভ ছিলেন। মাঝমাঠে ক্রুস ও মদরিচের অনুপস্থিতি একটু হলেও ভুগিয়েছে রিয়ালকে, যে কারণে প্রায় সময়ে রক্ষণসঙ্গী এদের মিলিতাওকে পিছে রেখে মাঝমাঠে উঠে যাচ্ছিলেন দলে নতুন আসা ডেভিড আলাবা।

ওদিকে রিয়াল বেতিসের ফরাসি উইঙ্গার নাবিল ফেকির বেশ কয়েকবার রিয়ালের রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়িয়েছেন। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার গিদো রদ্রিগেজ খেলেছেন দুর্দান্ত। ইংলিশ ক্লাব নরউইচ বেতিসেরই আরেক মিডফিল্ডার পর্তুগালের উইলিয়াম কারভালিওকে কিনতে চাচ্ছে। কেন কিনতে চাচ্ছে, বেতিসই বা কেন কারভালিওর মতো মিডফিল্ডারকে ছেড়ে দিচ্ছে, গিদো রদ্রিগেজের পারফরম্যান্সেই সেটা স্পষ্ট।

ঠিকঠাক প্রেস করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই সমস্যায় পড়ছিল রিয়াল। তবে বেতিসও সে সুযোগ ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেনি। বলের দখল নিজেদের কাছে সেভাবে রাখতেই পারছিল না তাঁরা। প্রথমার্ধে রিয়ালকে যা একটু চেপে ধরেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেটাও করতে পারেনি ঠিকঠাক।

যে কারণে রিয়ালও নিজেদের সুযোগ নিতে ভুল করেনি। ৬১ মিনিটে করিম বেনজেমার সহায়তায় গোল করে বসেন রাইটব্যাক দানি কারভাহাল। ইসকো, বেল – দুজনই তেমন কিছু করতে পারছিলেন না দেখে এর পরপরই এই দুজনকে তুলে মাঠে লুকাস ভাসকেজ ও মার্কো আসেনসিওকে নামান আনচেলত্তি।

রক্ষণ ও মাঝমাঠে খেলানোর জন্য রিয়ালের বেঞ্চে যে ফিট খেলোয়াড়ের কতো অভাব, সেটা বোঝা গেছে যখন আসেনসিওর মতো উইঙ্গার মাঝমাঠে এসে খেলছিলেন। ওদিকে ম্যাচের শেষদিকে গোটা ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা লেফটব্যাক মিগেল রদ্রিগেজের জায়গায় নামান হয় ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রদ্রিগোকে। চোটের কারণে উঠে যান মিগেল, না হয় পুরো নব্বই মিনিটই হয়তো খেলতেন এই তরুণ। শেষদিকে ভিনিসিয়ুসের জায়গায় মাঠে নেমেছিলেন এদেন হ্যাজার্ডও, নেমেই হলুদ কার্ডও দেখেছেন, সময়ক্ষেপণের অভিযোগে।

ম্যাচের ৫৭ মিনিটে বেশ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছিলেন রিয়ালের মিডফিল্ডার কাসেমিরো। মাঝমাঠে বেতিসের এক খেলোয়াড়কে ট্যাকল করতে গিয়ে উলটো রেফারি এর্নান্দেস এর্নান্দেসকে ট্যাকল করে বসেন তিনি। ভাগ্য ভালো, রেফারির কিছু হয়নি! পরে হাসিমুখে উঠে কাসেমিরোর সঙ্গে সবকিছু ‘মিটমাট’ করে নিয়েছেন এই রেফারি!

ম্যাচের শেষদিকে দুই সাবেক বার্সা তারকার কল্যাণে সমতাসূচক গোলটা পেয়েই বসেছিল বেতিস। উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান তেয়োর আর রাইটব্যাক মার্তিন মনতোয়ার যুগলবন্দীতে সে গোলটা আর করতে পারেনি বেতিস। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল। এই জয়ে হয়তো অতো সৌন্দর্য খুঁজতে যাওয়া ঠিক হবে না, কিন্তু দিনশেষে বেতিসের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই স্কোয়াড নিয়ে তিন পয়েন্ট পাওয়া বেশ তৃপ্তি দেবে আনচেলত্তিকে।