ঝামেলা এড়াতে নতুন ৯ খেলোয়াড় ডাকল ব্রাজিল

ভয় তো থাকেই। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ সামনে। করোনার মধ্যে রয়েছে কোয়ারেন্টিন জটিলতা। স্পেন, ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের অনেক লিগের ক্লাবগুলো তাই নিজেদের খেলোয়াড় ছাড়তে চায়নি ব্রাজিলকে।

এদিকে ব্রাজিল কোচ তিতের দুশ্চিন্তা, ক্লাবগুলো শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় না ছাড়লে বেকায়দায় পড়তে হবে! ঝুঁকি না নিতে তাই আগেভাগেই নতুন ৯ খেলোয়াড় স্কোয়াডে ডেকেছেন তিতে।

ক্লাবগুলোর পক্ষে রয়েছে তাদের লিগও। ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি ও পর্তুগিজ লিগ তাদের ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় ছাড়তে চাইছে না। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কেউ এই ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য এর আগে ২৫ জনের যে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন তিতে, সেখান থেকে অন্তত ১৫ জন খেলোয়াড় হারাতে পারেন। এর মধ্যে ১১ জনই ইংল্যান্ড এবং স্পেনের লিগে খেলেন।

তবে মজার ব্যাপার, তিতে নতুন করে যে ৯ খেলোয়াড় ডেকেছেন, তাঁদের মধ্যে দুজন স্প্যানিশ লিগ ও পর্তুগিজ লিগের খেলোয়াড়—রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও স্পোর্তিং লিসবনের ম্যাথিয়ুস নুনেস।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সেপ্টেম্বরের ম্যাচগুলো সামনে রেখে কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে কিছু খেলোয়াড়কে না পাওয়ার বিষয়টি—বিশেষ করে ইংল্যান্ডের—মাথায় রেখে আমরা মুল দলের সঙ্গে আরও কিছু খেলোয়াড় অর্ন্তভুক্ত করতে চাই।’

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে এবার তিনটি ম্যাচই বেশ কঠিন ব্রাজিলের জন্য। আগামী ২ সেপ্টেম্বর চিলির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ৫ সেপ্টেম্বর খেলবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ৯ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ পেরু।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লিভারপুল গোলকিপার আলিসন, মিডফিল্ডার ফাবিনিও, ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো, ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুস ও গোলকিপার এদেরসন, চেলসির ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ফ্রেডকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে নাও পেতে পারে ব্রাজিল।

তবে সাও পাওলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মুখোমুখি হবেন দুই ক্লাব সতীর্থ নেইমার ও লিওনেল মেসি। কারণ ফরাসি লিগের ক্লাবগুলো তাদের খেলোয়াড়দের ছাড়ার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি জানায়নি।

ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, পর্তুগালের ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে ঝামেলাটা হয়েছে কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নীতির কারণে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিটি দেশই নিজেদের মতো করে ভ্রমণ সংক্রান্ত ‘লাল তালিকা’ করে। সেসব দেশে ভ্রমণে এবং ভ্রমণ শেষে ফেরার পর অনেক নিয়মের কড়াকড়ি আছে।

ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি কিংবা পর্তুগালের চোখে লাল তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় দলের হয়ে কোনো খেলোয়াড় খেললে, খেলা শেষে নিজ ক্লাবে ফেরার পর তাঁকে বাধ্যতামূলক দশ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই খেলোয়াড় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়াও লিগেও বেশ কিছু ম্যাচ খেলতে পারবেন না তারা।

ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, পর্তুগালের ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে ঝামেলাটা হয়েছে কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নীতির কারণে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিটি দেশই নিজেদের মতো করে ভ্রমণ সংক্রান্ত ‘লাল তালিকা’ করে। সেসব দেশে ভ্রমণে এবং ভ্রমণ শেষে ফেরার পর অনেক নিয়মের কড়াকড়ি আছে।

ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি কিংবা পর্তুগালের চোখে লাল তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় দলের হয়ে কোনো খেলোয়াড় খেললে, খেলা শেষে নিজ ক্লাবে ফেরার পর তাঁকে বাধ্যতামূলক দশ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই খেলোয়াড় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়াও লিগেও বেশ কিছু ম্যাচ খেলতে পারবেন না তারা।

এ ছাড়া দশ দিনের বিরতি মানে খেলার ধারায় ছেদ, যা ফিটনেসে প্রভাব ফেলবে। তখন কোয়ারেন্টিন শেষে চাইলেই ওই খেলোয়াড়কে সরাসরি ম্যাচে নামিয়ে দিতে পারবে না তাঁর ক্লাব।

ইউরোপের চারটি লিগ তাই ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় না ছাড়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে ক্লাবগুলোকে জাতীয় দলের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশের আহবান জানিয়েছিলেন। তবে ক্লাবগুলো নির্দেশ অমান্য করলে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইনফান্তিনো কিছু বলেননি।

ব্রাজিল স্কোয়াডে অতিরিক্ত ৯ খেলোয়াড়:

গোলকিপার : এভেরসন (আতলেতিকো মিনেইরো), সান্তোস (আতলেতিকো)।

ডিফেন্ডার: মিরান্দা (সাও পাওলো)।

মিডফিল্ডার: এদেনিলসন (ইন্টারনাসিওনাল), গারসন (মার্শেই), ম্যাথিয়াস নুনেস (স্পোর্টিং লিসবন)।

ফরোয়ার্ড: হাল্ক (আতলেতিকো মিনেইরো), মালকম (জেনিত) ও ভিনিসিয়ুস (রিয়াল মাদ্রিদ)।