ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়ন পরিষদে দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ২য় পর্যায়ে অনিয়মের তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথা। ইউনিয়নে ৩টি প্রকল্পে ১৮১ জন লেবারের ৪ সপ্তাহের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে অথচ কোন প্রকল্পের সভাপতিই জানেন না তিনি কোন প্রকল্পের সভাপতি, প্রকল্পে কত জন লেবার,কাজ কবে থেকে শুরু বা কবে থাকে শেষ।এর মধ্যে পাকপাড়া প্রকল্পে ৭০ জন লেবার থাকলেও মাত্র ২ দিন কাজ করিছেন ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন। প্রকল্প পরিষদের অন্য সদস্যদের নামে থাকলেও সকল কাজ তিনি নিজেই দেখাশোনা করেছেন।চণ্ডিপুর প্রকল্পেও ২ দিন কাজ করানো হয়েছে বলে জানান ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রশিদ।তিনি বলেন, এই প্রকল্পের পিআইসি কে তা আমি জানিনা। তবে ২ দিন এই রাস্তায় ১০-১২ জন মাটির কাজ করেছে। আপনি এই প্রকল্পের সভাপতি এমনটি বললে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড়। তিনি বলেন,সচিব চেয়ারম্যান আমাদেরকে মানুষই মনে করে না।আমি সচিবের কাজে না শুনে কিছুই বলতে পারবো না। একই রকম কথা বলেন পাইকপাড়া প্রকল্পের পিআইসি নারগিস আক্তার।তিনি ৫,৬ ও ৭ নং সংরক্ষিত আসনের সদস্য। তিনি বলেন,আমি প্রকল্পের পিআইসি এই কথা আজকেই শুনলাম আপনার কাছ থেকে।শুনেছি মাটির কাজ হচ্ছে। ইউপি সচিব ও চেয়ারম্যান আমাকে কিছুই বলেনি।অন্য দিকে মাধবপুরের চকমারি থেকে ডিসি রোড অভিমুখের এই পকল্পে ৭০ জন লেবার কিন্তু ১০ এপ্রিল প্রকল্প শুরুর তারিখ হতে ২ জুন প্রকল্প শেষের তারিখ পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও দেওয়া হয়নি এই রাস্তায়। পরে সাংবাদিকরা উপজেলা প্রকল্প অফিসে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ জুন ১০ জন লেবার লাগানো হয় এবং অন্য স্থান থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি এনে ফেলা হয় কয়েক গাড়ি। ইউপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবায়দুল হক রিপন জানান, আমি সড়ক দুর্ঘনার কারণে কিছু দিন হাসপাতালে ছিলাম।তাই সময়মত কাজ করা হয়নি। তাহলে টাকা তুলেছেন কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান বলেন আমি জানিনা চেয়ারম্যান ও সচিব জানে।তিনি বলেন, চান্দেরপোল গ্রামের মমিন ও কাশিমপুর গ্রামের সামিউল মাটির কাজ করেছে।ইউপি সচিব ইউনিয়ন উন্নয়ন কমিটির সেক্রেটারী হলেও তিনিও কিছুই জানেন না বলেন এই প্রতিবেদক জানিয়েছেন। তিনি বলেন,৪০ দিনের কর্মসূচির টাকা তুলতে সচিবের কোন সই স্বাক্ষর লাগে না।আমি কোন দেখতেও যায়নি। কোথায় কিভাবে কাজ হয়েছে কি হয়নি আমি কিছুই জানিনা। এদিকে পরিষদের দেওয়া ওয়েবসাইটে ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরের মোবাইল নাম্বার ০১৬১০১৭০০২১ এ কল দিলে বন্দ পাওয়া যায়। গত মে মাসের ২৫ তারিখে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।এর আগে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় তিনি ১ ফেব্রুয়ারি ৬৬দিন জেল খাটার পর হাইকোর্টের জামিনে মুক্তি পেয়ে এক মাস পরে আবার পরিষদের চার্জে বসেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন বলেন, সারাদেশে সব জায়গাতেই এই প্রকল্পে অনিয়ম হয়। এখানেও হয়েছে কম বেশি।আমি জানিনা উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাসিবুর রহমান প্রকল্প পরিদর্শনে যান।তিনি দেখে এসে বলেছে সব ঠিক আছে তার পর আমি বিল ছেড়েছি ৪ সপ্তাহের। বাকি টাকা আর দেওয়া হবে না।উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান বলেন, আমি একদিনে হলিধানী হয়ে চন্ডিপুর ও পাইকপাড়া প্রকল্পে গিয়েছিলাম মাধবপুরে যাওয়ার সময় পায়নি। ফোন করে শুনলে পিআইসি কাজ চলছে বলে জানান।
এদিকে গান্না ইউনিয়নে এই অনিয়ম প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য লিখিতভাবে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। যেটাতে ইউএনও মহোদয় নিজে স্বাক্ষর করে রিসিভ করেছেন,কার্যালয়ের সিল দিয়েছেন।রবিবার সংবাদ কর্মীরা এই অভিযোগ বিষয়ে ইউএনওর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই বিষয়টি আমার নলেজে নেই।গান্না ইউনিয়নে এই প্রজেক্টে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সুবিধাভোগীর দৈনন্দিন মজুরি এবং ৬ হাজার টাক সর্দার ভাতা দেওয়া হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য অধিকার ফর্মে সদর উপজেলার এই প্রকল্প সহ অন্য দুটি প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করলেও তিনি রবিবার পর্যন্ত তালিকা দিতে পারেননি।ইউপি সদস্যদের অভিযোগ এই চেয়ারম্যান বিগত বছর গুলিতেও ৪০ দিনের কর্মসূচিতে এইভাবেই দুর্নীতি করে এসেছেন। সরকারি টাকায় তিনি নিজের ড্রাগন বাগানে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছেন অন্যের জমির উপর দিয়ে।যেই সমস্ত জমি গ্রহিতাদের কাছ থেকে অ্যাকোয়ার করা হয়নি এবং এই রাস্তাটি পূর্বে কোন ম্যাপেও ছিলনা।