আনিসুর রহমান খোকা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের গান্না ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারী ভাতা ভোগীদেরকে সিম কিনতে বাধ্য করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে তদন্তে যান উপজেলা সমাজ সেবার দুই কর্মকর্তা।

জানাগেছে, গান্না ইউনিয়নে বয়স্ক,বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী প্রায় দু’শ জন রয়েছে। কিন্তু সঠিক তালিকা গান্না ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব পোর্টাল ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ওয়েব পোর্টালে গান্না ইউনিয়নে বিধবা,বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের তালিকা নেই। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার ‘নগদ'(মোবাইল ব্যাংকিং) এর মাধ্যমে ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

এই কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির একটি নগদ একাউন্ট থাকা দরকার।এর মধ্যে অনেকের মোবাইল ফোন রয়েছে ব্যক্তিগত। অনেকের বা নেই । মোবাইল ব্যবহারের উপযোগি না হওয়ায় তাদের পরিবারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গান্না ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তার সকল ভাতাভোগীদের ২০০ টাকা দামে একটি সিম নিতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাসরিন ইউনিয়নের বিভিন্ন মোবাইল সেবাদানকারী দোকান থেকে এই সিম ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে কিনে ভাতাভোগীদের কাছে ২০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।

এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে বুধবার দুপুরের পর গান্না ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ঘটনা তদন্ত করতে যায় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের ২ কর্মকর্তা।

এই বিষয়ে উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তারের কাছে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুধু অনলাইনে তথ্য এন্ট্রি করেছি। সিম বিক্রয়ের বিষয়ে আমি জানিনা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তারা এসেছেন। তদন্ত করে সঠিক ঘটনা তুলে ধরবেন।

এই বিষয়ে গান্না ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান রিপন বলেন, আমি আগে জানতাম না। জানার পরে বাড়তি দামে যাদের কাছে সিম বিক্রি করেছে আমরা সেই দোকানদারকে বাড়তি টাকা ফিরিয়ে দিতে বলেছি।

এই বিষয়ে সিম বিক্রি করাদের মধ্যে একজন গান্না বাজারের মায়ের দোয়া টেলিকমের সত্বাধীকারী আলা উদ্দিন জানান, ৬০ টাকা দরে তার কাছ থেকে ৪ টি সিম কার্ড নিয়েছে উদ্যোক্তা নাসরিন। বাকী সিম অন্য কারোর কাছ থেকে নিয়েছে।

দুপুরের পর থেকেই গান্না ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশে এই ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নাসরিন আক্তার উদ্যোক্তা হিসাবে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংক চালাই পরিষদে। সে বিভিন্ন সময় মাতৃত্বকালীন ভাতা বা অন্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দিয়ে তার ব্যাংকে একাউন্ট খুলিয়েছে।  অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারী ধান কেনা শুরু হলেও সে এই এলাকার বিভিন্ন মানুষকে ভূল বুঝিয়ে লটারিতে নাম আসা কৃষকদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে নেয়। এই বিষয়টি সেই সময় সাংবাদিকদের নজরে আসলে সে ৮টি কার্ড সেই কৃষকদের কাছে ফেরত দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সে ডিজিটাল সেন্টারে জন্মনিবন্ধন সহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষদেরকে ঠকিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পায়ে হেটে ৫-৭ মিনিটের দুরত্ব দুর্গাপুর গ্রামের ইন্তাজ আলীর মেয়ে।কিন্তু সে কখনও ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া করে থেকেছে। বর্তমানে গান্না বাজারের ঘোষ মার্কেটে মাসিক ৪ হাজার টাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকে। ইতোপূর্বে তার ৪ টি বিয়ে ছাড়াছাড়ি হয়েছে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছে।