হবহু পত্রিকার পাতায় নিউজটি পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন

ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটা। উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় বেপরোয় হয়ে পড়েছে মাটি ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ৩-৪ ব্যবসায়ী বাইরের জেলা থেকে স্কেভেটর ভাড়া করে নিয়ে এসে মাটি কাটার মহোৎসব চালাচ্ছে। রাতারাতি ফসলি জমিকে বানিয়ে ফেলছে পুকুর। অতিরিক্ত পুকুর খননের কারণে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে।

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এর প্রভাবে বিপর্যয় আসতে পারে কৃষি ক্ষেত্রে এমনটাই জানাচ্ছেন কৃষি বিভাগ।

অবাধ মাটি কাটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার পুকুর খননের নীতিমালা আরোপ করলেও ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রশাসনের রহস্য জনক নিরাবতায় বেপরোয়া ইটভাটা মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীরা। মাটি টানা গাড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার পাকা-কাঁচা সড়কগুলি। ভুক্তভোগী তো বটেই সংবাদ কর্মীরা উপজেলা প্রশাসনকে মাটি কাটার তথ্য দিলেও ‘দেখছি’ বলে পাশ কাটিয়ে যান কর্মকর্তারা।

কোথাও ভূমি কর্মকর্তাকে জানালে দুয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ হলেও আবারও চলছে মাটি কাটার মহোৎসব।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সিজন শুরুর আগেই ইটভাটা মালিক ও মাটিকাটা সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা পৌঁছে দিয়েছেন সংশ্লীষ্ট জায়গাগুলিতে। যার কারণে খবর পেয়েও নীরব তাকে উপজেলা প্রশাসন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,‘ আমরা ধরলেই পাবলিক বলে আমাদের জমি থেকে আমরা মাটি কাটতে পারবো না-এ কেমন আইন। অনেকেই তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন। আমরা অচিরেই কঠোর পদক্ষেপে যাবো। আপনারা নিউজ পাবেন।’

কিন্তু এরই মধ্যে বড় রকমের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে পরিবেশের। সড়কগুলি নষ্ট হওয়ার কারণে সরকারের রাস্তা সংস্কারের খরচ বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায় ঘোড়শাল ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুকুর থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটি লোড করা হচ্ছে ট্রলিতে। ৪টি ট্রলিতে করে নারিকেলবাড়িয়া ইটভাটায়। এই বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী শিমুলকে ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এই মাটি কাটছে চেয়ারম্যান। এই মাটি কেটে রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে।

সেখান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টনের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন কোন রাস্তার কাজ হচ্ছে না। আমি এখানে মাটি কাটার বিষয়ে কিছুই জানিও না। আগে জায়গাটিতে অগভীর পুকুর থাকলেও সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোন অনুমোদন নেননি সিরাজুল ইসলাম।

তেঁতুলবাড়িয়ার মাটি কাটার জায়গা থেকে নারিকেল বাড়িয়া বাজারে যেতে প্রায় ২ কিলোমিটার পিচের রাস্তার মাঝে-মাঝেই দেবে গেছে। রাস্তাটি করা হয়েছে এখনো ২ বছর হয়নি।

ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারি প্রকৌশলী বিকাশ কুমার নন্দী বলেন, ‘ সারা জেলা জুড়েই ইটভাটার মাটি টানা গাড়ির কারণে সড়কগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অল্পদিনেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংস্কারের জন্য সরকারের খরচ বাড়ছে। মাটি টানার গাড়ি রাস্তা উঠতে দেওয়া অচিরেই বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মনিরা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট করে মাটি কাটার স্থানগুলির নাম জানতে চান। ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন।