নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝিনাইদহ শহরের রাস্তাগুলো এখন সড়কপালিত গরুর অবাধ বিচরণক্ষেত্র। গরু অবলা প্রাণি, ওদের কোন দোষ নেই। তবে এরা ধর্মের ষাড় নয়; এদের মালিক আছে। বিনা খরচে গরু পোষার এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছেন এদের মালিকেরা।

রাস্তার খাবার, অপরের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে গাছগাছালি সাবাড় করেই এরা জীবন যাপন করে।
মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটানোও এদের কাজ। কোন গরু চোর এদের চুরি করে না। গদাইলস্করি চালে এরা হেটে চলে ঝিনাইদহের প্রধান প্রধান সড়কে। এরা এতই ক্ষমতাধর যে এরা কারো তোয়াকা করে না।

এদের কারণে রাস্তার পাশে রোপন করা গাছ বেড়ে উঠতে পারে না। আমি নিজেও রাস্তার পাশে খাঁচার দিয়ে গাছের চারা রোপন করেছি, সারমাটি ও নিয়মিত পানি দিয়ে, সজীব করে তুললাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম সব শেষ। শিং দিয়ে গুতিয়ে ভেঙে যত্নে লালিত গাছের চারা দিয়ে উদরপূর্তি করলো এরা।
আমার স্বপ্ন ভেঙে হলো খানখান।

এদের অন্যতম একটি কাজ হলো রাস্তার উপর যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ করা। সে বর্জ্য সাইকেল গাড়ির চাকার সাথে, জুতার তলায় লেপটে থেকে পৌঁছে যাবে আপনার বাড়ির বারান্দায়, এমনকি ড্রয়িংরুম, বেডরুমে। অনেকে গোবর দিয়ে বাড়ির উঠোন পবিত্র করে। আপনার ঘরটি নাহয় এভাবেই পবিত্র হলো। গো-দেবতা বলে কথা।

ভাবছেন এদের দেখভাল করার কেউ নেই। ভাবনাটা সঠিক নয়; একটা গরু ধরেই দেখুন, কেউ না কেউ আশপাশ থেকে ছুটে আসবে ওদের উদ্ধার করার জন্য। কারণ এরা নজরদারির মধ্যেই চলা ফেরা করে। সামাজিক মাধ্যমে চাটুকারদের গলাবাজি শুনি ঝিনাইদহ শহর একটি আধুনিক শহর, বাংলাদেশের রোল মডেল। এটা বোধহয় সেই আধুনিকতারই একটি বৈশিষ্ট্য।

দেখিনু সেদিন রাস্তায়
দুরন্ত কিশোর বাইক চালায়।
গরুর সাথে লাগলো ধাক্কা
একটু হলেই পেত সে অক্কা।
মানুষ হলে হতো গ্রেফতার,
ওদের ধরে সাধ্য কার?

সুত্রঃ খোন্দকার হাফিজ ফারুক এর ফেইসবুক ওয়াল থেকে