ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে প্রতি বছর ভুয়া চাহিদা পত্র দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।টেন্ডার হওয়ার পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করা হয় ফেরত দেওয়া আইটেম বাবদ।এভাবেই চলে আসছে কয়েক বছর। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে টেন্ডার আইডিঃ ২৮৬২৭১। এই বছরে ইজিপি থেকে সরবরাহের কাজ পায় ইউনিভার্সাল পাওয়ার টেক এন্ড ইঞ্জিয়ারিং লি. ।টেন্ডার পত্র অনুযায়ী ৯টি আইটেম প্রতিষ্ঠানের কমিটি কর্তৃক অপছন্দ হওয়ায় ফেরত দেওয়া হয়। এর মধ্যে আইটেম নং ১০৫ কিউব ফার্টিলাইজার অ্যাপ্লিকেটর ছিল ১০টি যার প্রতিটির দাম ৫৮০০ টাকা,আইটেম নং ১৪০ এ ছিল ২ ইন্সির ১০ মিলি পুরু এসএসপাইপ। যা সারা বাংলাদেশে কোথাও তৈরি হয়না। এই আইটেমের মূল্য ছিল ৫৯০০০ টাকা। এই রকম করে আইটেম নং ৬,৭,৮,১২.১৩,১৪১ ও ১৪২ নং আইটেমের পণ্য ফিরিয়ে দেওয়া হয় সরবরাহকৃত কোম্পানির কাছে। ফিরিয়ে দেওয়া মোট ৯টি আইটেমের মোট মূল্য ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ টাকা। বগুড়ার একটি কারখানায় কমিটির কথা হয়েছে সেখান মাল নেবে এই কথা বলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই ২ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর(সপ) লুতফর রহমান,সহকারী স্টোর কিপার মোয়াজ্জেম হোসেন ও জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম) জাহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে ২ মেয়াদের বিভিন্ন নাম্বারে বিকাশে ৬৮ হাজার,নগদ ১ লাখ ও পূবালী ব্যাংকের একাউন্ট ১২৭২১০১০২৫৬৩৯ এ ৫০ হাজার টাকা নেন তারা। ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে এই একাউন্টটি লুতফর রহমানের। এই বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে ইউনিভার্সাল পাওয়ার টেক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ম্যানেজার মোঃ সাদ্দাম হোসেন প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেছেন।তিনি বলেন, আমরা সকল আইটেম বাজারের সেরাটাই দিয়েছিলাম। কিন্তু কিউব ফার্টিলাইজার অ্যাপ্লিকেটর ম্যানুয়াল তারা বগুড়ার একটি কারখানা থেকে নেবেন বলে আমাদের জানান।এই কারণে আমাদের নিয়ে যাওয়া অ্যাপ্লিকেটর ফেরত দেন।এছাড়া যে এসএসপাইপের কথা বলেন তা বাংলাদেশে তৈরি হয়না। আমরা বাজারের ২ ইন্সির সর্বোচ্চ পুরু পাইপ নিয়ে গেলেও তারা ফেরত দিয়ে দেন। সেই বাবদে নগদ টাকা চান।আমরা ৩ মেয়াদে নগদ,ব্যাংক একাউন্টে ও বিকাশ একাউন্টে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ টাকা দিয়েছি। ঠিক একইভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরেও টেন্ডার আইডি ৫৬৪৬১১ থেকে ২২টি আইটেম বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে গ্রহণ করেননি । যার মূল্য ৩ লাখের বেশি বলে জানিয়েছে কমল ট্রেড ইন্টার ন্যাশনালের কর্মচারীরা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে কমিটি করা হয় প্রতিবছর। তারা মাল বুঝে নিয়ে স্টোরে ঢুকান। কোন সমস্য হলে কমিটির লোক জবাব দেবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে লুতফর রহমান বলেন, আমি গত ২ বছরের কমিটিতে নেই। ২০১৮-১৯ সালের কমিটিতে ছিলাম। কিছু অনিয়ম হয়েছে আমি স্বীকার করছি। তবে এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চাইলে ২ দিন সময় চান লুতফর রহমান। সহকারী স্টোর কিপার মোয়াজ্জেম হোসেনকে ফোন দিলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন,তার স্বামী অসুস্থ, ঘুমাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠলে আপনার কথা বলবো। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে টেন্ডার আইডি ২৮৬২৭১এর বাদ দেওয়া আইটেম গুলি আর ক্রয় করে স্টোরে জমা দিয়েছেন এমন কোন প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে দেখাতে পারেন নি লুতফর রহমান,মোয়াজ্জেম হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম। এদিকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুসন্ধান করা সাংবাদিককে চাপ প্রয়োগ সহ বিভিন্ন প্রকৃয়া অবলম্বন করে বেড়াচ্ছেন অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যক্ষ এই অনিয়মে জড়িত না থাকলে এজি থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইটেম না দিয়েই কিভাবে টাকা তুলতে পারেন? যেই আইটেমের প্রয়োজন নেই সেটি চাহিদা পত্রে দিয়ে সরকারের টাকা তসরুপ করার একটা প্রকৃয়া মাত্র। এই অনিয়ম দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সচেতন মহল। উল্লেখ্য এর আগের অধ্যক্ষ অনিয়ম দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়েই এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেন।