মোঃ ইলিয়াস আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ড.টিএম মাহবুবর রহমানকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের মেইন গেটে তালা দিয়ে মারপিট করেছেন একদল সন্ত্রাসী। এ নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী নেতাকর্মীদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।

সোমবার ২১শে মার্চ সকালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনের আলোচনা হবে এ কথা বলে ডেকে নিয়ে যান জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে।

সেখানে সম্মেলনের সকল আলোচনা শেষে দলের নেতারা চলে যাওয়ার শুরু করলে ড.টিএম মাহবুবর রহমানকে কৌশলে (কথা আছে বলে) মির্জা ফয়সল আমিনের উপস্থিতিতে খোরশেদের কথা বলে মেইন গেট থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। গেট থেকে পিছনে ফিরতে না ফিরতেই তালা দিয়ে তাঁকে মারপিট শুরু করে।

মাহবুবের চিৎকারে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলম,সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড.সৈয়দ আলম তাৎক্ষনিক উদ্ধার করে ঠাকুরগাও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিকালে তাঁকে বালিয়াডাঙ্গীস্থ নিজ বাসায় নিয়ে আসেন।

ড.মাহবুবর রহমান জানান, মিটিং শেষে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনের সামনে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ বলে খোরশেদ আপনাকে ডাকছে। আমি তার সাথে ভিতরে গেলে গেটে তালা দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম ও জেলা যুবদলের সভাপতি চৌধুরী মহেবুল্লাহ আবু নুর, সাধারণ সম্পাদক তুহিনসহ মুখচেনা কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে । তাঁরাই আমাকে আঘাত করতে উৎসাহ যুগিয়েছে। আমাকে আহত অবস্থায় যখন বের করে নিয়ে যায় তখন আমি ফয়সল আমিন কে অবগত করতে গেলে তিনি কোন কিছু না বলে ধুমপানে ব্যস্ত ছিলেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ আলম বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। আমি জড়িতদের বহিষ্কার করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র মোহাম্মদ আলম,ওবায়দুল্লাহ মাসুদ,সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী,আনছারুল হক ও জাফরুল্লাহ দেখতে আসেন। তাদের দেখে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীগণ দোষীদের শাস্তি দাবি করেন এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে এসে ঘটনাটির জন্য সকলে দুঃখ প্রকাশ করে ড. টিএম মাহবুবর রহমানকে দেখতে যান।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে রুহিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি আনছারুল হক বলেন,নিজ দলীয় কার্যালয়টিতে যদি আমাদের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কোথায় আমরা নিরাপদ?

জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল্লাহ জানান,এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলের মহাসচিব বিষয়টি জেনেছেন।তিনি শক্তহাতে বিষয়টি দেখবেন বলে জানা গেছে।

জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলম বলেন, যখন প্রচন্ড মারপিট হচ্ছিল আমি দৌঁড়ে গিয়ে তাঁকে বাঁচিয়েছি। মাহবুবের গাঁয়ের ঝড়া রক্তে আমার পাঞ্জাবী ভিজে গিয়েছিল। তাঁকে মেরে ফেলার মতো পরিস্থিতি আমি দেখেছি।

জেলার বিএনপি’র সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন,এটি মেনে নেওয়া খুব কস্টকর। নিজ দলীয় কার্যালয়ে আটকে রেখে মারপিট করা কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। নিন্দা জানাবার ভাষা নেই আমাদের।এমন ঘটনার জন্য দল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে এবং আমরা নিজেরাও আতংকিত যে কোনো সময় আমাদের উপরেও এমন হামলা হতে পারে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ড.টিএম মাহবুবর রহমানকে দেখা করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ নেতা-কর্মীদের  ধৈর্য্য ধারনের জন্য অনুরোধ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মী ছাড়াও  উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কারের দাবী জানিয়েছেন।