ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে হত্যা মামলার ঘটনায় আসামীদের সঙ্গে জব্দকৃত তিনটি ইজিবাইক উধাও কিংবা বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাও আবার উক্ত তদন্ত কেন্দ্রের কর্মরত পুলিশ সদস্যরাই এ অভিযোগ করেছেন। বুধবার বিকালে স্থানীয় সাংবাদিকরা এ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কেন্দ্রে গেলে তারা জানায়,২৭সেপ্টেম্বর রাতে জালসা গ্রামে ডাকাতের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় স্কুলছাত্র মোঃ রমজান আলী। ঘটনায় ধামরাই থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ২৮। এ
হত্যা মামলার ঘটনায় সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার জিরানি বাজার এলাকা থেকে তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে। সেই সঙ্গে ওই আসামীদের দখল থেকে জব্দ করা হয় ব্যাটারি চালিত তিনটি ইজিবাইক। এ মামলায় জব্দকৃত ওই তিনটি ইজিবাইক দীর্ঘদিন ওই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরে ফাঁকা জায়গার ওপর পড়ে থাকলেও হঠাৎ করে ওই তিনটি ইজিবাইক উধাও হয়ে গেছে।এনিয়ে পুলিশের ভেতরেই কোন্দল শুরু হয়ে গেছে। তাদেরও প্রশ্ন ওই তিনটি ইজিবাইক কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক(ওসি)মোঃ ফজলুর রহমানের হেফাজতে রাখা হয়। হেফাজতে থাকা জব্দকৃত ওই তিনটি ইজিবাইক উধাও হওয়ার ঘটনা স্বয়ং পুলিশ সদস্যদের মধেই শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়।
ওই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ধারণা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ফজলুর রহমান কাউকে না জানিয়ে গোপনে ওই তিনটি ইজিবাইক বিক্রি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তদন্ত কেন্দ্রের কয়েকজন পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তারা জানান,২ সেপ্টেম্বর এ হত্যা মামলার ঘটনায় ২জনকে গ্রেফতার করা হয় নিজ এলাকা থেকে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি ও দেখানোমতে আশুলিয়া থানার জিরানি এলাকা থেকে তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। সেইসঙ্গে এ তিনটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয় আমাদের জ্ঞাতসারে।
দীর্ঘ্যদিন ধরে ওই ইজিবাইক তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরে খালি মাঠে ইনচার্জ মোঃ ফজলুর রহমান স্যারের হেফাজতে ছিল। দু”দিন আগেও ওই ইজিবাইক উক্তস্থানে দেখা গেছে। হঠাৎ মঙ্গলবার সকালে ডিউটি করার জন্য তদন্ত কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় দেখি জব্দকৃত ইজিবাইক তিনটি নেই। স্যারকে জিঙ্গাসা করলেও তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান। প্রকৃত যে আসামীদের কাছ থেকে এ ইজবাইক আটক করা হয়েছে তাদেরকেও দেয়া হয়নি। কারণ তাদের এখনও জামিনই হয়নি। গোপনে এ তিনটি ইজিবাইক কাউকে না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে।
এব্যাপারে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নে কোন উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যান। এব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি সাংবাদিকরা জেনে যাওয়ায় তিনি তার অধিনস্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের অধিক চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে ধামরাই থানার দক্ষ ও বিচক্ষণ পুলিশ ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলে,এব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।