ওমর আলী মোল্যা, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ ডেকে নিয়ে মানুষ দিয়ে অপমান করানো এবং প্রেমে ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতেই পোষাক শ্রমিক প্রেমিকার ইমোতে এডিট করে পর্ণ ছবি দিতো প্রেমিক আলমগীর হোসেন (৩০)। এ ঘটনায় প্রেমিকার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরাও খেলো প্রেমিক। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে নগদ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড গুনতে হয়েছে তাকে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহিনা আক্তার এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আলমগীর গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মূলগাঁও (চরপাড়া) গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন হোটেল ব্যবসায়ী। মূলগাঁও আরএফএল গেইটে তার হোটেল রয়েছে। আর প্রেমিকার বাড়ী নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায়। এক সময় প্রাণ-আরএফএলে কাজ করতো। এখন গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে থাকেন এবং সেখানেই একটি পোষাক কারখানায় কাজ করেন।

মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহিনা আক্তার। তিনি জানান, কোন নারীর শ্লীলতাহানী অমর্যাদাকর অনভিপ্রায়ে ১৮৬০ এর দন্ডবিধি আইনে ৫০৯ ধারায় নগদ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে।

ভূক্তভোগী মেয়েটি জানায়, সে আমাকে খুব বিরক্ত করতো। তাই তাকে বুঝানোর জন্য ফোনে গাজীপুর ডেকে নিয়েছিলাম। তবে তাকে আমি অপমান করিনি। স্থানীয় কিছু মাস্তান তাকে অপমান করেছে। এরপর থেকে সে আমার ইমো নাম্বারে প্রায়ই খারাপ খারাপ ছবি দিতো। এতে করে আমার স্বামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে চলছিল। তাই আমি থানায় অভিযোগ করেছি।

আলমগীর হোসেন জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিবাহিত এবং দুটি সন্তানও রয়েছে। আরএফএল গেইটে তার হোটেল। সেখানেই ওই মেয়ে তার একজন খদ্দের ছিল। মেয়েটিও বিবাহিতা। হোটেলে আসা-যাওয়ার মধ্যে মেয়েটির সাথে পরিচয় ও তারপর প্রেম হয়। এক সময় মেয়েটি চাকুরী ছেড়ে এখান থেকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে চলে যায়। তবে মেয়েটির সাথে ফোনে যোগাযোগ ছিল। একদিন মেয়েটি তাকে গাজীপুরে ডেকে নিয়ে স্থানীয় বখাটেদের দিয়ে তাকে অপমান করায়। সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধ নিতেই মেয়েটির ইমোতে পর্ণ ছবি এডিট করে পাঠাতো সে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক জানান, মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এখন নাই। কিন্তু যেহেতু মেয়ের ইমোতে পর্ণ ছবি পাঠাতো তাই বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ড মহোদয়ের সাথে কথা বলে আর্থিক জরিমানা করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।