নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা জেলায় এবার প্রায় ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ১৯ জুন দুই সপ্তাহব্যাপী এই ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগীতায় জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সিভিল সার্জন অফিস আয়োজিত ও পিআইবির সহযোগীতায় সংবাদ সম্মেলনে পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক কাজী গোলাম আহাদ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মহসিন মিয়া।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এবার ঢাকা জেলার ধামরাই, দোহার, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও সাভারের ৬৩টি ইউনিয়নে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৬১ হাজার ৯৬৫ জন ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ২৯ হাজার ৮২ জন শিশু রয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে সে লক্ষ্যে সর্বত্র মাইকিং করে জনগণকে জানানো হবে। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রত্যেক ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, আজকের শিশুরাই সেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করবে। সেজন্য আমাদেরকে একটি সুস্থ-সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের শারীরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। আর শিশুদের সুস্থতার জন্য যেসকল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে তার মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অন্যতম। এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন আহম্মেদ তিথি। তিনি বলেন, ৬-১১ মাস বয়সীদের একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এটি একটি জাতীয় কর্মসূচি। যেকোন ক্ষেত্রেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যাপসুল শুধুমাত্র অন্ধত্ব দূর করে এমন নয়। এটি শিশুদের পুষ্টি ঘাটতিও পূরণ করে। তাই এই ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব অনেক।