ঝড়ের গতিতে আফগানিস্তানের ১৮টি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে তালেবান। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির ‍দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গোষ্ঠীটির সদস্যদের দেখতে উৎসুক মানুষ রাস্তায় বের হয়েছেন।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানায়।

শুক্রবার ছিল কান্দাহার ও হেরাত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রথম দিন। এ দিন তালেবান যোদ্ধাদের নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতুহল দেখা গেছে।

আফগানিস্তানের এ দুই শহরে সপ্তাহখানে ধরে লড়াই চলছিল। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার শহর দুটি দখলে নেওয়ার দাবি করে তালেবান। কিন্তু এত সহজে শহর দুটি দখলে নিতে পারবে গোষ্ঠীটি এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না সেখানকার বাসিন্দারা।

হেরাতের এক সরকারি কর্মকর্তা যিনি বর্তমানে কাবুলে বসবাস করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, এটা কীভাবে ঘটল।’

শুক্রবার সকালে হেরাতের এক বাসিন্দা বলেন, তালেবান যোদ্ধাদের দেখার জন্য মানুষ রাস্তায় বের হয়েছেন।

অনলাইনে ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ তালেবানের যোদ্ধাদের এক ঝলক দেখার জন্য রাস্তায় ভিড় করেছে, যা তারা ২০ বছরের মধ্যে দেখেননি।

কান্দাহারের এক যুবক বলেন, শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তালেবানের যোদ্ধাদের উদযাপনের মেজাজে দেখা গেছে। সে সময় বিজয়ের সংকেত হিসেবে তারা আকাশে গুলি ছুড়ছিলেন।

বৃহস্পতিবার কান্দাহার ও হেরাতের দখল নেয় তালেবান।

তালেবানের এক মুখপাত্র বলেন, কান্দাহার সম্পূর্ণভাবে জয় করা হয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা শহরের শহীদ চত্বরে পৌঁছেছে।

আলজাজিরা বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে তালেবানের হেরাত দখলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য। তারা প্রায় সবাই একই কথা বলেছেন। তাদের কথা অনুযায়ী, হেরাতের সব সড়কেই অবস্থান জোরদার করেছে তালেবান। তারা সরকারি সব অফিস দখলে নিয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টেই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ করবে দেশটি। এর মধ্যেই তালেবান দেশের প্রায় অর্ধেকের বেশি জেলার দখল নিয়ে নিয়েছে।