হালিম সৈকত, কুমিল্লাঃ কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চোর-ডাকাতদের তান্ডবে জনজীবনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীদের থেকে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি ডাকাতি মূলক নানা অপরাধ কর্মযজ্ঞের ঘটনা। একাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় যেনো মগের মুল্লুকে পরিনত হয়েছে তিতাস। এই মগের মুল্লুকে বসবাস করছে তিতাসের মানুষ! কারোরই যেনো কিছু করার নেই? একাধিক চুরি ডাকাতির ঘটনায় অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়,
১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত ৯ টার দিকে উলুকান্দি গ্রামের মৃত সুবল সরকারের ছেলে সুমন সরকার (৩৫)’র গোয়ালঘর থেকে কালো রংয়ের একটি ৭ মাসের গাভীন গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশি আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী রিনা বেগম টের পেয়ে টস লাইট মেরে কালো রংয়ের গরুটি নিয়ে যেতে দেখে ফেললে তখন চোর গরুটি ফেলে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যায় বলে জানায় গরুর মালিক সুমনের মা মরিয়ম বেগম।একই রাত ৩ টার দিকে বন্দরামপুর গ্রামের মৃত আব্দু খন্দকারের ছেলে হাজিব খন্দকার (৩৫) এর দুচালা ঘরের পূর্ব দিকে দু’টি সিদ কেটে দুচালা ঘরে ডুকে ১টি মোবাইল,মূল্য ১২ হাজার টাকা,নগদ ৫ হাজার ৫০০ শত টাকা ও ইসলামী ব্যাংক গৌরীপুর শাখার একটি চেক বই চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানায় হাজিব খন্দকারের স্ত্রী ফাতেমা।

একই রাতে একই বাড়ীর মৃত মাহফুজ খন্দকারের ছেলে আবুল কাসেম (৭০) পায়খানায় গেলে এসুযোগে ঘরে চোর ডুকে ১টি মোবাইল,মূল্য ১৫০০শ’ টাকা ও গায়ের ১ টি বিদেশী চাদর মূল্য ৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানায় আবুল কাসেম।
১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত আড়াই টার দিকে সাতানী ইউপি’র উত্তর আকালিয়ার চকের বাড়ীর মৃত রশিদের ছেলে মজিবুর রহমান(৫০)এর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ১২-১৩ জনের একটি ডাকাত দল মজিবুর রহমানকেসহ তার স্ত্রী হাসনা বেগমকে(৪৫) তার মেয়ে মরিয়ম বেগমকে(২৫) তার স্বামী ইকবাল হোসেন(৩৫)কে হাত-পা ও খুম বেধে বেদম মারধর করে নগদ-৫০’হাজার টাকা,সাড়ে ৪ ভড়ি স্বর্ণ অলংকর ও ৩ টি মোবাইল, মূল্য প্রায় ২০’হাজার নিয়ে গেছে বলে জানায় মুজিবুর রহমান ।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ২ টার দিকে মৌটুপী গ্রামের মৃত আজিজ বেপারীর ছেলে সৌদি প্রবাসী মোশারফ বেপারীর চারচালা ঘরের দরজা লোহার কাউয়াল দিয়ে খুলে সট প্যান্ট পড়া ১৫-১৬ জনের ডাকাত দল ঘরে ডুকে প্রবাসী মোশারফ এর মেজ বোন আমিরুন (৩৬)কে হাত,পা ও মুখ বেধে গলা থেকে ৮ আনি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কান থেকে ১ ভরি ওজনের জিনিস,তার স্ত্রী রানুকে(২৬)
গলায় ছরি ধরে মারধর সাত আনি স্বর্ণের চেইন ও পাঁচ আনি কানের জিনিস,তার মা মানোয়ারা(৭০)কে বেধে গলা থেকে ১ ভরি স্বর্ণের চেইন ও কানের জিনিস,মোবাইল ৫ টি মূল্য ৪১ হাজার ২’শ টাকা, চার্জ লাইট ১ টি মূল্য ৩ হাজার টাকা,২’টি বিদেশী কম্বল মূল্য ১৪ হাজার টাকা,৭ ভরি রূপা ও নগদ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে জানায় প্রবাসী মোশারফের বোন সুমি আক্তারের জামাই মোঃ বাদল।

১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার গভীর রাতে কড়িকান্দি ইউপি’র উত্তর আলীর গাঁও গ্রামে ডাকাত দল হানা দিলে গ্রামবাসী টের পেয়ে মসজিদের মাইকে মাইকিং করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায় বলে বিশ্বস্ত এক সূত্রে জানা গেছে।

১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিবাগত রাতে ভিটিকান্দি ইউপি’র রতনপুরের হানিফ মিয়ার ঘর থেকে নগদ টাকাসহ অন্যান্য দামী জিনিস নিয়ে যায়। ঘরের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে ডাকাত দল হানিফ মিয়ার বউকে কুপিয়ে আহত করে। পরে মসজিদের মাইকে মাইকিং করলে ডাকাতদল মাইক্রো নিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জগতপুর ইউপি’র প্রথম দশানীপাড়ার দু’টি বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, রাত ২ টায় প্রথম দশানী পাড়ার আবুল কাসেমের বিল্ডিং ও দুচালাঘরের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা,স্বর্ণ অলংকারসহ ৫ টি মোবাইল সেট নিয়ে যায় মুখোশ পরিত ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আবুল কাসেমকে (৬০) পিঠে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগমকে(৪৫)গলায় ছুরি ধরে রেখে মারধর করে বিল্ডিং ও দুচালা ঘর থেকে নগদ টাকা,স্বর্ণ অলংকারসহ ৫ টি মোবাইল সেট নিয়ে চলে যায় মুখোশ পরিত ১০-১২ জনের ডাকাত দল।

গুরুতর আহত আবুল কাসেমকে বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।তার পিটে ছয়টি সেলাই করা হয়েছে।

আহত আবুল কাসেমের মেয়ে রোজিনা জানায় ১০-১২ জনের মুখোশ পরিত ডাকাত দল বিল্ডিং ও দুচালা ঘরের তালা ভেঙ্গে বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আমার মায়ের গলায় ছুরি ধরে হাতে ও পিটে লাঠি দিয়ে মারধর করে মায়ের গলা থেকে ১ ভরি ওজের স্বর্ণের চেইন ও আট আনি ওজনের কানের দুল,বড় ভাই সোহেলের স্ত্রী কুহিনূর-কে মারধর করে তার গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও আট আনি ওজনের কানের জিনিস,মেজ ভাই জুয়েলের স্ত্রী জুমির গলা থেকে সাত আনি ও জনের স্বর্ণের চেইন ও পাঁচ আনি ওজনের কানের জিনিস,বিল্ডিং রোমের টেবিলে উপর রাখা ব্যাগ থেকে দেড় ভরি ওজনের ৩ টি স্বর্ণের আংটি,নগদ-২৫০০/টাকা ও ৫ টি মোবাইল ১টি আইফোন মূল্য-৭০ হাজার টাকা, দু’টি হাওয়াইফোন,মূল্য ৭৩ হাজার টাকা,স্যামসাং মোবাইল,মূল্য ১৬ হাজার, নকেয়া মোবাইল, মূল্য ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এদিকে একই রাতে একই পাড়ার মৃত লাল মিয়ার ছেলে জহর মিয়া (৬০) বিল্ডিং ও দু’চালা ঘরের তালা ভেঙ্গে তার মুখ হাত ও পা বেঁধে তাঁর স্ত্রী বানু বেগমের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ১ ভরি ওজনের কানের জিনিস,২ টি মোবাইল, ১টি স্যামসাং মূল্য ২০’হাজার টাকা, ১টি মোবাইল মূল্য ৮’হাজার টাকা, চার্জলাইট ২টি মূল্য ৮ হাজার,বিল্ডিং থেকে নগদ ৩০’হাজার টাকা ও দু’চালা ঘর থেকে প্লাস্টিকের ব্যাংক কেটে ২০’হাজার ও মসলার মেশিন, মূল্য ৩’হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে জানায় জহর মিয়ার ছেলের বউ সারমিন।

৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাতাকান্দির মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের প্রোঃ মোঃ রুবেল সরকারের বাতাকান্দি বাজারের চাউলের গোডাউনের তালা ভেঙে ৪৪ বস্তা চাউল নিয়ে গেছে ডাকাত দল। যার মূল্যে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা বলে জানান মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের প্রোঃ মোঃ রুবেল সরকার।
৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে মজিদপুর ইউপি’র কাখিয়াখালীর মৃত সোলেমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬০) এর ঘরের দরজা লোহার কাউয়া দিয়ে খুলে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল তার ঘরে ডুকে তার মাথায় ও ডান হাতে কুপিয়ে সু-কেচের ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ-৩০ হাজার টাকা,তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের জিনিস, ৩ ভরি রূপাসহ তার মা অজুফা খাতুনকে(৮০)মুখে চাপ দিয়ে ধরে রেখে সাত আনি ওজনের স্বর্ণের জিনিস কান থেকে খুলে নিয়ে যায় এবং ১ টি মোবাইল মূল্য ১ হাজার ২ শত টাকা, ২টি টস লাইট মূল্য ১ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে জানায় তার মেয়ে শিরিনা আক্তার।

এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চর রাজাপুর বেপারী বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ১২-১৫ জনের একটি ডাকাত দল ঐ বাড়িতে অস্ত্রের মুখে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী গৃহবধূ রোজিনাকে গণধর্ষণের হুমকি দিয়ে প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে প্রায় ১৭ লক্ষাধিক টাকার মালামালা নিয়ে যায়।
এর আগেওএকই কায়দায় তিতাসে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন,এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং তিতাস থানাকে আরও তৎপর হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে যদি কারো কাছে কোন তথ্য থাকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো। অবশ্যই নাম, ঠিকানা গোপন রাখা হবে।
তিতাস থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম বলেন, তিতাসের ৯টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড ভিত্তিক মাদক, চোর ডাকাত প্রতিরোধ কমিটি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আশা করি কমে আসবে।