নিজস্ব প্রতিবেদক

পত্রিকার পাতায় হুবহু পড়তে উপরে বা নিচের ছবিতে ক্লিক করুন

৮৩ দিন হাসপাতালে থেকে ফিরোজায় যাওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া এখন ভালই আছেন। তিনি টুকটাক হাঁটাচলা করছেন, টেলিভিশন দেখছেন এবং এক ধরনের অবসর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্য দিয়েই তিনি আবার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। যদিও বেগম খালেদা জিয়ার ফিরোজায় যাওয়া সকল নেতাকর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র তার নিকটাত্মীয় এবং চিকিৎসকরা ছাড়া কেউই ফিরোজায় যেতে পারেন না। ফিরোজায় নিয়মিত যান বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী এবং তার বোন সেলিনা ইসলাম নিয়মিত তার বাসায় যান। এছাড়া একটি চিকিৎসক দল সকালে এবং বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। বাসায় স্থায়ীভাবে কয়েকজন নার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার ওষুধপত্র দেওয়া, পেশার মাপা ইত্যাদি কাজগুলো করে থাকেন। কিন্তু এসবের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আস্তে আস্তে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে বিএনপির অন্তত তিন নেতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া যোগাযোগ করেছেন, কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে কোনটাই বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোনে নয়, শামীম এস্কান্দার এবং সেলিনা ইসলামের টেলিফোনে বিএনপির তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই তিন নেতাই এই ব্যাপারে কোনো রকম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

যাদের সাথে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং মির্জা আব্বাস। এই ৩ নেতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন নেতা বিএনপিতে অনেকটাই কোণঠাসা এবং এরা তিনজনেই বেগম জিয়াপন্থী হিসেবে পরিচিত। তারেক জিয়ার একক কর্তৃত্ব দখলের পর বিএনপির রাজনীতিতে এখন দুটি ধারা চলছে। এই ধারায় বেগম খালেদা জিয়াপন্থীরা দলের ভিতরে ক্রমশ কোণঠাসা হতে হতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, তারেকপন্থীরাই এখন বিএনপিতে সর্বেসর্বা, ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন। এরকম বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়া এই তিন নেতার সাথে কেন কথা বললেন, এ নিয়ে বিএনপি’র মধ্যেও গুঞ্জন হয়েছে। এই তিন নেতার মধ্যে একজন আবার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ওই বৈঠকে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা বলার বিষয়টিকে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া আবার রাজনীতিতে আসবেন কিনা বা তিনি বিএনপির হাল ধরবেন কিনা, এরকম প্রশ্নের জবাবে যে তিনজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের একজন বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এখনো গুরুতর অসুস্থ। রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তার নেই। তবে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, সবকিছুই তিনি জানেন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কি কথা হয়েছে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি বলেন যে, কেবলমাত্র কুশলাদি বিনিময়, শরীর-স্বাস্থ্যের অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি জানতে চেয়েছেন। ওই নেতা বলেন, ম্যাডাম এখনও খুব অসুস্থ, খুব বেশি কথা বলতে পারেন না। আমার স্বাস্থ্যের খবর তিনি জানতে চেয়েছিলেন।

তবে বিএনপির মধ্যে একটি বিপুল অংশ মনে করছে, বেগম খালেদা জিয়া যদি আস্তে আস্তে রাজনীতিতে সক্রিয় হয় তাহলেই সংগঠন ঘুচানো হবে এবং সংগঠন শক্তিশালী হবে। তবে বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকারী নির্বাহী আদেশে জামিনে রয়েছেন। ২৫শে মার্চ তার ছয় মাসের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। আর এ রকম জামিনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যায় না। কাজেই, তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন কিনা, সে নিয়েও একটি সংশয় রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা বলছেন যে, রাজনীতি এখন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে মুখ্য বিষয় নয়, তার সুস্থতা মুখ্য বিষয়। তারা সরকারের কাছে নতুন করে আবার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করবেন বলেও জানা গেছে।