এস এম মাসুদ রানা  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিএবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০২০-২১ সালের জন্য সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবিত জেলা ও সীমান্তবর্তী উপজেলা বিরামপুর থেকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ মেধাবী মুখ।

এদের মধ্যে ইমরুল নূর রিসাদ ঢাকা মেডিকেল, মাহিন কামাল সওদাগর ঢাকা মেডিকেল, নূর আফরুজ রেটিনা ময়মনসিংহ মেডিকেল ও আতিকুল হক রংপুর মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা ৪জনই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ অত্যান্ত সুনামের সাথে শিক্ষা জীবনে সফলতার সাথে পার করিয়েছেন।

ইমরুল নূর রিসাদের পিতা শেখ সাদি সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনার ইন্সটিটিউট, বিরামপুর এর একজন সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) ও মাতা কামরুন্নাহার রিমা একজন সফল গৃহিনী। তারা ইসলামপাড়া বিরামপুরের বাসিন্দা। ইমরুল নূর রিসাদ বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জেএসসিতে গোল্ডেন ও রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এবং একই কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ১০৭তম স্থান অর্জন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সূযোগ পেয়েছেন। তার মেরিট স্কোর ২৮১.৭৫।

মাহিন কামাল সওদাগরের পিতা কামাল আহমেদ সওদাগর হাকিমপুর মহিলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের সিনিয়র প্রভাষক ও মাতা হুমায়ারা ফাতেমা বিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক। তারা বিরামপুর সওদাগর পাড়া ঢাকা মোড়ের বাসিন্দা। মাহিন ২০১২ সালে ২নং প্রাইমারি স্কুল বিরামপুর থেকে পিএসসিতে ট্যাল্টেপুলে বৃত্তি, আদর্শ হাইস্কুল হতে ২০১৫ সালে জেএসসিতে ট্যাল্টেপুলে বৃত্তি, ২০১৮ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০২০ সালে সেন্ট যোসেফ কলেজ ঢাকা হতে এইচএসসিতে সাধারন বৃত্তি পান। সে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ২০৫তম স্থান অর্জন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

নূর আফরুজ রেটিনার পিতা খায়রুল বাশার চৌধুরী বিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মাতা শাহানাজ পারভীন একই কলেজের একজন প্রদর্শক। তারা বিরামপুর পূর্বজগন্নাথপুরের বাসিন্দা। নূর আফরুজ রেটিনা ২০১২ সালে বিরামপুর পৌর কিন্ডার গার্টেন স্কুল থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, এছাড়াও নর্থ বেঙ্গল একাডেমির সনদপ্রাপ্ত, বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০১৫ সালে জেএসসিতে জিপিএ ৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, একই স্কুল হতে ২০১৮ সালে জিপিএ ৫ গোল্ডেন এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর থেকে ২০২০ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ গোল্ডেন পান। সে জেলা কোটায় বৃত্তি লাভ ও দিদউফ কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত হন।

আতিকুল হকের পিতা সাংবাদিক ড. এনামুল হক বিজুল দারুল হুদা কামিল ¯œাতকোত্তর মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মাতা আয়েশা সিদ্দিকা একজন সফলতম গৃহিনী। তারা বিরামপুর প্রফেসরপাড়া (লিচুবাগান) এর বাসিন্দা। আতিকুল হক বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুল জেএসসিতে গোল্ডেন ও সাধারন বৃত্তি, একই স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ রংপুর থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। সে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার মেরিট স্কোর ২৭১.৫।

মেডিকেলে ভর্তিতে উত্তীর্ণ বিরামপুরের এই ৪ মেধাবী মুখ সকলেই এই কৃতৃত্বের জন্য আল্লাহ্ সোবহানু তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের এই সফলতার পিছনে তাদের বাবা-মা অনুপ্রেরণা ও স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কোচিং এর সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষকদের অবদান অতুলনীয়। শিক্ষকগণ আমাদের প্রতি তাদের মেধাবী প্রজ্ঞা দিয়ে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় প্রস্ততি ব্যাচে সামনের কাতারে দাড় করেছেন। আমরা তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।