লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রমীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) সংস্কার কর্মসূচির অধীন বাস্তবায়িত প্রকল্পের কাজ নিয়ে হয়েছে নয়ছয়। উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। যেসব প্রকল্প নেয়া হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই এক চতুর্থাংশের কাজ হয়নি। হয়েছে শুধুমাত্র নামে। আর কিছু কিছু প্রকল্প আছে কাগজে বাস্তবে কাজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না এভাবে বেশিরভাগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে শুধু কাগজের দলিলে।

২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত এডিবি, ভূমি হস্তান্তর কর, টিআর, কাবিখা, থোক বরাদ্দ, এলজিএসপি-৩ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে ধর্মঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল ইসলাম কামাল নীতিমালা না মেনে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি অর্থ-বছরে টিআর ও কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীন গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে ধর্মঘর ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে হয় এক ধরণের ভাগাভাগি। ফলে শেষমেশ কাজ হয় নামে। এসবের সত্যতা যাচাই করতে সরজমিনে ধর্মঘর ইউনিয়নে গেলে মিলে এর সত্যতা।

গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় নন সোলার খাতে ১ম পর্যায় ১০ মেট্রিক টন চাল, ১০টি সোলার স্ট্রীট লাইট স্থাপনের জন্য ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা, রাস্তাঘাট মেরামতসহ ১৪টি প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ১ম পর্যায় ১২টি প্রকল্পের জন্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৪৩ টাকা। এছাড়া লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি) এর আওতায় (পিবিজি) ৩টি প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এলজিএসপি’র আওতায় ১২টি প্রকল্পের জন্য ১ম কিস্তিতে মৌলিক থোক বরাদ্দ (বিবিজি) অর্থ আসে ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ২য় কিস্তিতে ১১টি প্রকল্পে বরাদ্দ আসে ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এছাড়া আরও অনেক বরাদ্দ আসে ওই ইউনিয়নে। কিন্তু এসব বরাদ্দ কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায়নি
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দেবপুর পাঠান হাঠির ইউসুফ আলীর পুকুর পাড়ে ১ লাখ টাকার একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ করার কথা কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে গাইড ওয়ালের কোন অস্তিত্ব নেই।

পুরো টাকাই চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম কামালের পকেটে। কাজ না করে কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন এ নিয়েও রয়েছে কানাঘেষা
কালিকাপুর চেরাগ আলী বাড়ীর পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য ২ কিস্তিতি ২ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। তবে কাজ হলেও অনিয়মের অভিযোগ উঠে চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে এলকাবাসী জানান ব্যাক্তিগত ঐ গাইডওয়াল নির্মাণ করার জন্য গ্রামবাসী মিলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তুলা হয়। ভালো কাজের কথা বলে কৌশলে চেয়ারম্যান কামাল ঐ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রকল্প দেখিয়ে কাজ করেন।

তাছাড়া মাটি ভরাট, রাস্তা মেরামত, স্কুল উন্নয়ন, ক্লাব উন্নয়ন, ইট সলিং, গভীর নলকূপ স্থাপন, কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান সরবরাহসহ নানা ধরণের প্রকল্প বরাদ্দ আসলে এসব প্রকল্প নয়ছয় দেখিয়ে চেয়ারম্যান কামাল টাকা উত্তোলন করেছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এসব কিছুই অনুসন্ধানের ২য় পর্বে তুলে ধরা হবে।

এর সত্যতা জানতে মুঠোফোনে কথা হয় চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম কামালের সাথে তিনি অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন দেবপুর পাঠান হাঠির ইউসুফ আলীর পুকুর পাড়ে গাইড ওয়ালটি কেটে কালিকাপুর চেরাগ আলী বাড়ীর পুকুর পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু কালিকাপুর চেরাগ আলী বাড়ীর পুকুর পাড়ে ২টি আলাদা বরাদ্দ রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন সব অভিযোগ মিথ্যা। এলাকাবাসী তাকে কোন টাকা দেয়নি বলেও জানান এই প্রতিবেদককে।

এবিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, আমি মাধবপুরে দ্বায়িত্ব পাওয়ার আগেই প্রকল্প গুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকল্পের অনিয়ম থাকলে আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব
এদিকে এলাকাবাসী দাবী জানান, সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে অনিয়মের তথ্য।