নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকাতে বেড়েছে ধুলোবালিদূষণ। আর এতে করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসতন্ত্র জনিত বিভিন্ন রোগে। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শিশু হাসপাতালে আসা মোট শিশুর ৪৯ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছে শ্বাসকষ্টে।

রাজধানী ঢাকার বাতাসে ভাসতে থাকা ক্ষতিকর বস্তুকণাগুলো ভেসে ভেসে ১০০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠছে। বাতাসের সঙ্গে তা ঢুকছে ঘরে । ফলে বাসার ভিতরে থেকেও রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরা। যার ফলে আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের সবাই।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী জানা যায়, নভেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অভিভাবকেরা যত শিশুকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের ৪৯ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন শ্বাসকষ্টে। ওই সময়ে রাজধানীর বাতাসে ধুলা ও দূষণ বেড়ে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুদের এ হার ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।

শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, শহরে ধুলোবালির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এখন শিশুরা বাসায় থেকেও রক্ষা পাচ্ছে না ধুলা থেকে। এই বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান-নিপসম পেশাগত এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা: শফিউর রহমান জানান, শুধু শ্বাসকষ্ট নয়, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের প্রদাহ, উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ বায়ুদূষণের কারণে বাড়ছে। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে বায়ুদূষণ।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের রেসপিরেটরী মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো. কামরুজ্জামান জানান, সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বায়ুদূষণ তৈরী করছে নতুন নতুন রোগ।

উল্লেখ্য যে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে রাজধানীতে রোগবালাই বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।