নাদিম হায়দার, ব্যুরো চীফ মুন্সীগঞ্জ: ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ছাত্র সংগঠন। নিয়ম অনুযায়ী ছাত্র ব্যতীত বিবাহিত কেউ সংগঠনটিতে পদ লাভ করতে পারবে না। যেখানে কেবলমাত্র অবিবাহিত ছাত্রদের গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া বিবাহিতদের কোন স্থান নেই। সেখানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি পরিচালনা করছেন বিবাহিত সভাপতি। বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামী হয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুত মোল্লা নামে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। এছাড়া নারী নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী হয়ে ছাত্র লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে বিদ্যুত মোল্লাকে সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম চমককে সাধারণ সম্পাদক করে কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কমিটির মেয়াদকাল ২ বছর হলেও ২০২১ সালে এসেও পূর্বের কমিটির কার্ক্রম বহাল রয়েছে। আর এ মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতির দায়ীত্ব পালন করছেন নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামী বিদ্যুত মোল্লা। স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, কয়েকমাস আগে যৌতুকের দাবীতে বিদ্যুত মোল্লা তার স্ত্রী ডায়না আক্তারকে মারধর করে। পরে ডায়না আক্তার বাদী হয়ে বিদ্যুত মোল্লাকে প্রধান আসামীসহ শ্বাশুড়ি রওশনারা বেগম ও ননদ শ্রাবণী আক্তারকে আসামী করে যৌতুকের জন্য মারপিট ও সহয়তা করার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) ১১(গ)/৩০ ধারায় সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন। যার নং-১১। প্রায় মাস খানেক হাজত ভোগ করার পর সম্প্রতি বিদ্যুত মোল্লাসহ মা, ও বোন উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। কয়েকদিন আগে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজদিখান থানার এস,আই সেকান্দার আলী বিদ্যুত মোল্লাসহ মামলার অন্যান্য আসামীদের অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুত মোল্লাসহ তার বাবা সিদ্দিক মোল্লা ও মা রওশনা বেগমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সুদর্শন গাঙ্গুলীর সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে ২০২০ সালের আগষ্ট মাসের ৯ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী একই ইউনিয়নের সুদর্শন গাঙ্গুলীর ছেলে মিঠুন গাঙ্গুলী। এর তিন দিন পর একই মাসের ১২ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান দেড়টার দিকে গাঙ্গুলী বাড়ীতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় ওইদিন দুপুরে রওশনারা বেগমসহ ৮ জনকে বিবাদী করে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন মিঠুন গাঙ্গুলী। যার নং-০৯। এ ঘটনার একমাস পরে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে জামিনে বেরিয়ে বাদী মিঠুন গাঙ্গুলীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওই মাসের ১২ তারিখে রওশনারা বেগমসহ চারজনকে বিবাদী করে থানায় সাধারণ ডাইরী করেন সুদর্শন গাঙ্গুলীর ছেলে মিঠুন গাঙ্গুলী। যার নং-৩৮৬ ছাত্রলীগ নেতা বিদ্যুত মোল্লার স্ত্রী ডায়না আক্তারের কাছে মুঠোফোনে এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে আমাকে হাতুড়ি দিয়ে বহুবার পিটিয়েছে। তার মা বোনও আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করেছে। আমার বাচ্চার খরচটাও ঠিকমত সে চালাতো না। আমাদের এখনো ডিভোর্স হয়নি। তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে দিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে। কোন মেয়ে সহজে তার সংসার ভেঙে যেতে দেয় না। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি বাবার বাড়িতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো। ও একটা অমানুষ। সিরাজদিখান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ চোকদার পাপ্পুর মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা বিদ্যুত মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি তাকে মারধর করেছি বলতে চড়থাপ্পড় দিয়েছি। আপনি নিউজ করলে করেন আমার কোন সমস্যা নাই। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির ব্যপারে জানতে চাইলে এ ব্যপারে কথা বলতে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন।