মনিরুজ্জামান লেবু, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় অটোরাইস মিলের ম্যানেজার মোঃ হাফিজুল ইসলামকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাকারী রুবেল(৩৫)কে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার মধ্য রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের তেলির চেল্লি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে নীলফামারী পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রোববার বিকালে আসামী গ্রেফতারের বিষয়টি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান নিশ্চিত করেন। হত্যাকারী রুবেল জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরেঙ্গা মাদুর জুম্মা মহল্লার মৃত আমিনুর রহমানের ছেলে ও জলঢাকা শহরের “চৌধুরী সুপার মার্কেটের” কসমেটিকস ব্যবসায়ী।
হত্যার শিকার হাফিজুল ইসলাম একই এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে ও জাহান অটোরাইস মিলের ম্যানেজার।
পুলিশ সুপার জানান, আসামী রুবেল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করার জন্য হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় চ্যুক্তিবদ্ধ হয়। ৩১ মে সন্ধ্যায় টাকা পরিশোধের দিন ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যার সময় টাকা কখন দিবে জানার জন্য হত্যাকারী রুবেল কৌশলে হাফিজুলের ছেলে ছাদেকুলকে মোবাইল করে জানতে চায়। ছাদেকুল উত্তরে বলে বাবা টাকা নিয়ে রাত ৮টার মধ্যে তোমার কাছে পৌছে যাবে। পুলিশ সুপার আরও বলেন দোকান বিক্রির টাকা আতœসাত করার লক্ষ্যে রুবেল ফন্দি আটে ওই টাকা ছিনতাই করবে। সেই মাফিক সে ধারালো অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ওৎ পেতে থাকে। হাফিজুল ইসলাম যখন টাকা নিয়ে বাড়ি হতে বের হয়ে যায় ঠিক তখন ফাকা স্থানে মুখোশ পড়ে রুবেল তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর হাফিজুরের কোমরে থাকা ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে রুবেল প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হত্যার শিকার হাফিজুরের লুঙ্গির
কোমড়ে বাধাই ছিল। যা পুলিশ লাশের সঙ্গে উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারের পর আসামী রুবেলকে রোববার সকালে নীলফামারীর জলঢাকার ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে রুবেলের মাধ্যমে হত্যার কাজে নিয়োজিত ধারালো ছোড়া ও তার লুকিয়ে রাখা রক্তাত্ব জামা, প্যান্ট ও গেঞ্জি জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) লিজা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদর থানার ওসি আব্দুর রউপ, জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, ডিবি ওসি ফিরোজ কবীর সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন।
প্রকাশ থাকে যে এই হত্যার ঘটনায় জলঢাকা থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে নিহতের ছেলে ছাদেকুল ইসলাম। এদিকে এই রির্পোট লেখার সময় আসামী রুবেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবাববন্দী প্রদান
করছে।