মনিরুজ্জামান লেবু, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে কলেজ ছাত্রী রিমুর মৃত্যুর ঘটনায়  জলঢাকা থানায় অপহরন ও হত্যা মামলা দায়ের করেছে রিমুর বাবা।এ মামলায় ফয়সাল ও তার বন্ধু রিজভী কে অাসামী করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে তদন্ত শেষে ঘটনার রহস্য উম্মোচন করা হবে।


নিহত রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমু রংপুর কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী ও কচুকাটা ইউনিয়নের তালুক মানুষমারা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার বন্ধু ফায়জুল করিম ফয়সাল একই গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

এলাকাবাসী জানান,  সোমবার নীলফামারী-জলঢাকা সড়কের রাজারহাট নামক স্থানে মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহত হয় রিমু আর ফয়সাল। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। রিমুর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রিমুর মা লিলি বেগম অভিযোগ করে জানান, আমার মেয়েকে জোড় পৃর্বক অপহরন করা হয়েছে। অপহরনের পর তাকে ইচ্ছাপৃর্বক মোটর সাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

রিমুর বান্ধবী নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী নুরী আক্তার জানান, আমরা টেংগনমারী বাজারে রশিদুল স্যারের কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পড়ি। গতকাল সোমবার আমি, রিমুসহ চার জন একসাথে প্রাইভেট পড়তে যাই। টেংগনমারী বাজারে যাওয়ার সময়ে হটাৎ রিমুর ফোনে কল আসলে সে প্রাইভেট পড়বে না জানিয়ে চলে যায় এবং বলে প্রাইভেট শেষ হলে তাকে ফোন দিতে। প্রাইভেট শেষ করে তাকে কল ও ম্যাসেজ পাঠালে তার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিযন পরিষদ চেযারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী বলেন, ২৪ঘন্টা অতিবাহিত হলেও আমাকে কোন পক্ষ থেকে আমায় অবহিত করেন নাই। ফয়সলের সঙ্গে নিহত রিমুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে লোকমুখে জানতে পেরেছি।’

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান , ‘নিহত রিমুকে অপহরনের পর হত্যা করা হয়েছে মর্মে রিমুর বাবা থানায় মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাবো।