এস এম বেলাল, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকীতে কবরস্থানের দেয়াল ভেঙ্গে মাঝরাতে পাকারাস্তা নির্মান, প্রশাসন নির্বেকার!

পটুয়াখালী দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদী ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল হক হাওলাদারের পৈত্রিক স্বত্ব ভোগ দখলীয় সম্পত্তির উপর নবনির্মিত কবর স্থানের দেয়াল ভেঙ্গে জোরপূর্বক মাঝরাতে পাকারাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে ও পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর ভুক্তভোগী আব্দুল হক হাওলাদারের দেয়া লেখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২১ ইং তারিখ উক্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মৃত, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে মোঃ খোকন হাওলাদার (৩৭), মৃত, রেয়াত আলী হাওলাদারের ছেলে আবু হানিফ (৪৭)সহ মৃত রেয়াত আলীর আরো দুই ছেলে শহীদুল ইসলাম (৫০) ও সুলতান (৫৩) এবং একই দলীয় ভুক্ত হাসিব (১৮) ও নাজমুননাহার তানিয়া (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০/৬০ জনের সন্ত্রাসী ও বেআইনী অস্ত্রধারী খোকন হাওলাদারের পেটোয়া বাহিনী কতৃক আব্দুল হক হাওলাদারের পৈত্রিক স্বত্ব ভোগ দখলীয় সম্পত্তির উপর নবনির্মিত কবর স্থানের দেয়াল ভেঙ্গে জোরপূর্বক মাঝরাতে আনুমানিক রাত ১ থেকে ৩টার মধ্যে পাকারাস্তা নির্মানের ঘটনাটি ঘটে।  

এ বিষয়ে ভুক্তভূগী আব্দুল হক হাওলাদার দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠের প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে বলেন, আমার ভোগদখলীয় সম্পত্তির মৌজা জোয়ারগরবদী, জে এল নং ২৯- বি,এস খতিয়ান ৩৫৮ এর ৫৬২৪ দাগের জমি দির্ঘ দিন যাবত নিরস্কুশ ওয়ারিশ বিদ্যমান থাকিয়া ভোগদখল করিতেছি। উল্লেখিত জমিতে সদ্য পারিবারিক কবর স্থানের প্রাচির নির্মান করি। কিন্ত ভূমিদস্যুরা ত্রাস, খুন জখমের ভয় দেখিয়ে রাতের আধারে দেয়াল ভেঙে রাস্তা নির্মানের চেষ্টা করে। আমি আমার পরিবারে সদস্যরা নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ ফোন করি। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুমকি থানা পুলিশের এস আই জাফর ও এএসআই মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানা পুলিশের নিরবতা টের পেয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে পুনরায়  পুলিশ সুপার প্রয়োজনিয় ব্যবস্তা গ্রহন করতে দুমকি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। ভূমিদস্যুরা থানা পুলিশকে উপেক্ষা করে। 

এ নিয়ে অভিযোগকারীদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে তার কাছে জানতে চাইলে নাজনুন নাহার তানিয়া বলেন,আমরা বায়নারেস্ট্রর জমির উপর আমাদের চলাচলের রাস্তা করেছি কারো জমিতে নয়,প্রতিপক্ষ যা বলছে আমাদের সমাজে হেওপ্রতিপন্ন করার পায়তারা চালাচ্ছে। জমির দাম আমরা আগেই  দিয়েছি,ওরা যা বলতেছে সব মিথ্যে বানোয়াট মনগড়া ইতিহাস রচনা করে বলছেন আপনাদের কাছে।

এব্যপারে দুমকী থানার এস,আই, জাফর আহম্মেদ’র ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বার (০১৭১০-৮২৬৬৩৯) এ ফোন করে উপরে উল্লেখিত সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমি অভিযোগের দায়িত্ব পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সার্বিক আলোচনা শুনে দু’পক্ষকে থানায় নিয়ে বসি।এবং আলোচনা সাপেক্ষে জমির মালিক পক্ষ চলাচলের রাস্তার জন্য জমি দিতে রাজি হয়। এক পর্যায় আমরা পশ্চিম পাশ থেকে সিমানা নির্ধারন করে দেই। গত ২রা মার্চ রাতে বাদী আমাকে একাধিক বার ফোন করে আমি লেবুখালী ডিউটিতে থাকায় ঘটনাস্থলে আসতে পারিনী। স্নাঃ৩৪৪ এমপি ২/৩/২১ ইং পুলিশ সুপারের সাক্ষরিত কপিতে ওসি দুমকী প্রয়োজনিয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সুপারের কপি হাতে পেয়েছি গত কাল,আমার কিছু করার নেই। আমার ঢাকায় সাক্ষী দিতে যেতে হচ্ছে ২ দিন পরে এসে ঘটনাস্থলে গিয়ে সকল তথ্য নিয়ে পুলিশ সুপারের বরাবর পেশ করব।আসলে বিবাদীরা যা করেছে আসলেই তা অন্যায় হয়েছে বলে এসআই জাফর তা স্বীকার করেন। 

এ বিষয় সরেজমিনে দুমকি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জের কাছে  গেলে থাকে থানায় পাওয়া যায়নি এমনকি তার মুঠোফোনে ফোন করলে ফোনটি রিসিভ হয়নি।