সৈয়দুর রহমান সৈয়দ- পাকুন্দিয়া ( কিশোরগন্জ) প্রতিনিধি ঃ “আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবে পাকুন্দিয়ার আয়মনা খাতুন”, এই শিরোনামে গত ৭ সেপ্টেম্বর বার্তাবাজারে  সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর)  অরাজনৈতিক সংগঠন চরপলাশ জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ অর্থ সহ বয়স্কভাতার কার্ড প্রদান করেন এবং আয়মনা খাতুনের চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে চরপলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃক্ষ রোপণ এবং দুই শতাধিক   গাছের চারা বিতরণ করেন। এসময় সংগঠনের সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সৈয়দুর রহমান সৈয়দ-  সন্চালনায় বক্তব্য রাখেন , উপদেষ্টা পরিষদের মনিরুল ইসলাম শামীম,বদরুল হক পলাশ, কনক ভূঁইয়া, আলাউদ্দিন মেম্বার, মতি মেম্বার রাজন, সৈয়দুর রহমান সৈয়দ- দৈনিক এই আমার দেশ, প্রতিনিধি  প্রমুখ।উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম বলেন আমার যে ইচ্ছে ছিল, স্বপ্ন ছিল তাহা চরপলাশ জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন করে যাচ্ছে। তাই সংগঠনটি করার জন্য এলাকার ছোট ভাইদের ধন্যবাদ জানাই। আয়মনা খাতুনে সংবাদটি বার্তাবাজার, কলম ২৪,, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক এই আমার দেশ পড়ি। চরপলাশ জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করিতেছে আমি সংগঠনের মঙ্গল কামনা করছি এবং ফান্ডেশনের ফান্ডের জন্য নগদ দশ হাজার টাকা প্রদান করেন।


উল্লেখ্যঃ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আয়মনা খাতুনের জন্ম ১৯৩২ সালে। স্বামী মারা গিয়েছে ৩০ বছর। আসছে ডিসেম্বরে  তাঁর ৮৯ বছর পূর্ণ হবে। তারপরও আয়মনা খাতুন পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২। স্বামীহারা আয়মনা খাতুন নানা রোগ-শোকে ভুগছেন। চিকিৎসা দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটানোও তার জন্য কষ্টকর। ক্ষোভে দুঃখে আয়মনার  প্রশ্ন, আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো? এত দিনেও তিনি বয়স্ক, বিধবা বা সরকারি অন্য কোনো ভাতার কার্ড পাননি।
 আয়মনা খাতুন উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের সুখিয়া ইউনিয়নের সুখিয়া ২নং ওয়ার্ডের  মৃত আব্দুল ছোবানের স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত মানুষের কাছে গেলাম। ভোটের সময় কত মানুষ আশ্বাস দিল। কিন্তু কেউই কিছুই দিল না। 

আয়মনা খাতুন থাকেন স্বামীর বাড়ীতে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছেলে পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিনি বলেন, রাজমিস্ত্রির আয় দিয়ে কোনোরকমে চলে সংসার।আমার মা বয়স্ক ভাতার যোগ্য হলেও এখনো কোনো ভাতা পান না। সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ টিটুকে সোমবার দুপরে একাধিক বার মোবাইলে কল করে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, মাত্র আপনার কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। স্হানীয় চেয়ারম্যানের কাছে ওই নারীর কাগজপত্র জমা দিলে শিগগিরই তিনি ভাতার আওতায় আসবেন। এসব তালিকা জনপ্রতিনিধিরা করেন। অনেক সময় কেউ কেউ বাদ পড়ে যান। বিষয়টি বিবেচনা করে চলতি বছর থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।