পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে’র প্রভাবে বরগুনার পাথরঘাটার পদ্মা, জিনতলা, পশ্চিম কাঠালতলী ও উত্তর কাঠালতলী বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাথরঘাটার প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ওই পরিবারদের সহায়তা দিতে প্রাথমিকভাবে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সরকার।

পাথরঘাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান ও তরুণ সমাজকর্মী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, এ বেড়িবাঁধ চারটি দীর্ঘদিন ধরে ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে পদ্মা, জিনতলা, পশ্চিম কাঠালতলী ও উত্তর কাঠালতলী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। পাউবোর এ গাফিলতির কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় পানিবন্দি হয়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। দ্রুত ওই বেড়িবাঁধ চারটি নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পাথরঘাটা ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিষখালী ও বলেশ্বর তীরের মানুষগুলো জোয়ারের পানিতে নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন। কিন্তু এ বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে কিছুই হচ্ছে না। এতে ওই নদ-নদীর তীরবর্তী মানুষগুলোর কথা কর্তাব্যক্তিদের কানে কখনোই পৌঁছায় না। আর মাঝেমধ্যে কানে পৌঁছালেও তা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতে ওই বেড়িবাঁধ এলাকার মানুষজনের যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

উত্তর কাঠালতলী বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন এলাকার বাসিন্দা সুজিত হালদার বলেন, এ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনে ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে এ দুঃখ দুর্দশার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাঁরা তিন বেলায় এক বেলা পেট ভরে খাবার পর্যন্ত খেতে পারছে না।

অপরদিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় পশ্চিম বাদুরতলা মতি মোল্লার দিঘীর পাড় ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ওই দিঘীতে ঢুকে পড়েছে এতে ওইদিকে এলাকার শতাধিক পরিবার খাবার পানির কষ্টে রয়েছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার বেগম ও হাসিনা বেগম বলেন, এ দীঘির পানি ফুটিয়ে খাবারের পানি হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের পানির চাপে দিঘীর পাড় ভেঙ্গে ওই দিঘী তলিয়ে যায়। এতে দিঘীতে থাকা অন্তত আড়াই লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে আর জোয়ারের লবণ পানি মুখে দেয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, পাথরঘাটার উত্তর কাঠালতলী, পশ্চিম কাঠালতলী, পদ্মা ও জিনতলা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। তবে ওই বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আগেই প্রস্তাব পাঠানো আছে।