মনিরুল ইসলাম, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ পাইকগাছার কপিলমুনিতে পারিবারিক দ্বন্দ্বে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত ইলিয়াস হোসেন ওরফে সাদ্দাম (২৮) নামে এক যুবক রাগে, দু:খে, ক্ষোভ ও লোক লজ্জায় ঘুমের ট্যাবলেট ও কীটনাশক পানে আত্নহত্যা করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামের নেছার উদ্দীন শেখ এর ছেলে শেখ ইলিয়াসের সাথে প্রায় দু’মাস ধরে তার পিতা-মাতার মতদ্বন্দ্ব চলে আসছিল। যার সূত্র ধরে ঘটনার দিন সোমবার সকালে ইলিয়াস তার পিতা-মাতার উপর চড়াও হয়। এসময় ছেলেকে শায়েস্তা করতে তার পিতা তার এক মামাতো ভাইসহ বড় ভাইয়ের জামাতা একই এলাকার আব্দুল মোড়লের ছেলে বুলবুল ওরফে বুলু মোড়লকে বাড়িতে ডেকে আনে।

এসময় তারা তাকে বেদম প্রহার করে ইলিয়াসকে ঘরে রেখে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ইলিয়াস নিজ ঘরে দরজা দিয়ে শুয়ে পড়ে। এরপর বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে ঘরের মধ্যে তার কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে ব্যাপক ডাকাডাকি করেও দরজা না খুলে জানালা ভেতরে ঢুকে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নেয়। পরে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, লোক-লজ্জা ও ক্ষোভে ইলিয়াস ড়্গুধা পেটে প্রথমে ঘুমের ট্যাবলেট ও কটিনাশক পানে আত্নহত্যা করে।

খবর পেয়ে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সঞ্জয় কুমার দাশ ও এসআই আব্দুল আলীম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে রাতেই ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরের দিন মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ ফিরে আসলে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তাকে শাষন করার জন্য ঘটনার দিন সকালে তাকে দু’একটি চড় মারা হয় এতেই আত্নহত্যা করে তিনি।

এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আলীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি তিনি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছেন। তাছাড়া ময়নাতদšত্ম রিপোর্ট না পাওয়া পর্যšত্ম মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যা”েছনা বলেও জানান তিনি।