ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের নামে হাতিয়ে নিল ৬৮ লক্ষ টাকা অনিশ্চয়তায় ভুক্তভোগীরা শিরোনামে গত ২৪ জুলাই ২০২১ শনিবার দুটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মো: রেজাউল করিম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, একটি মহল সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। আসল ঘটনাটি হলো-আমি মোঃ রেজাউল করিম, দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে কর্মরত ছিলাম এবং ঝিনাইদহ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে ‘ঝিনুকের ঝিনাইদহ’ নামে একটি বইও লিখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জাতিসংঘের অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সুনামের সাথে দেশ বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৭ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ধোপাবিলা গ্রামে ২১ শতক জমির উপরে নিজস্ব ভবনে হাজী আমজাদ হোসেন মোড়ল অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই ২১ শতক জমির মধ্যে মোঃ রেজাউল করিম নিজ নামের ১১ শতক জমি দান করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৩০ জন সমাজের অবহেলিত ও অসহায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ের এমপিওভূক্তির জন্য ট্রাকিং নম্বর- ২০২০৩০০০০১৪ এবং রেজিষ্ট্রেশন নং-ঢ-০৯৬৯১।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বিদ‍্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনা করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। সরকারের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ১৩ জন শিক্ষক এবং ৭ জন কর্মচারী বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়টির সভাপতি কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানের পিতা হাজী আমজাদ হোসেন মোড়ল এবং সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর থেকে নানাভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিদ্যালয়টি যাতে প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে তার জন্য বাধা দিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শামসুল হক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-ঝিনাইদহ,পিঃ নং- ৫৬১/২০১৮। অবশ্য মামলাটি আদালত পরবর্তীতে খারিজ করে দেন। তাছাড়া ১৯/০১/২০১৯ তারিখে হাজী আমজাদ হোসেন মোড়ল অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ১০০টি ক্যালেন্ডার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে নিয়ে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ঐ দিন বিদ্যালয়ের অফিস ভাংচুর করে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের ড্রয়ার ভেঙ্গে ২৫,০০০/-টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি এবং কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান বাদী হয়ে শামসুল হক গং এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। মামলা নং-ঝিনাইদহ,পি. নং- ২০/২০১৯, তাং- ১৩/০২/২০১৯। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। আমি বিদ্যালয়ের কোন আর্থিক কার্যক্রমে কোন দিনও সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। তিন বিষয়ে স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি কলেজে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে মানব সেবায় ব্রত হয়ে গত ৩১/১২/২০২১ ইং তারিখে স্বেচ্ছায় সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করে, সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট ৬৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সংবাদ প্রকাশ করেছে যা সম্পূর্ন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।