দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের মা ইয়াছমিন বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

রবিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শাহপরান হল থেকে বুলবুলের জিনিসপত্র বুঝে নেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে ইয়াছমিন বেগম বলেন, “আজ যদি আমার ছেলে ঝালমুড়িও বিক্রি করতো, তাইলে কি সে মারা যেত? কেউ কি খুন করতো? এখনও তদন্ত করা হচ্ছে। ভালোভাবে তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, আমার বুলবুল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুল্বুলের মা আরও বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই। আমার ছেলে খুব ভালো ছিল। তাকে কেন ওরা মারলো? আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও!”

বুলবুলের বোন সোহাগী আক্তার বলেন, “যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা চাই তাদের রিমান্ডে নেওয়া হোক। রিমান্ডে নিলে তারা সত্য কথা বলবে। আমার ভাইকে হত্যার সঠিক বিচার চাই। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওদের বিচার করা হোক।”

বুলবুলের মামা কামাল আহমেদ বলেন, “বুলবুল হত্যায় জড়িতদের সঠিক বিচার চাই। অপরাধীদের ফাঁসি চাই। খুব দ্রুত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

বুলবুলের জিনিসপত্র হস্তান্তরের বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান বলেন, “হলে বুলবুলের পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। বুলবুলের মালপত্র তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গে থাকা মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি পুলিশের কাছে আছে। এগুলো সিজ করা হয়েছে।”

পুলিশের কাছে থাকা বুলবুলের মানিব্যাগ ও হাতঘড়ির বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ দেব বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সময় বুলবুলের মোবাইল ফোন ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। সেটা আসামি কামরুলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সেটা সিজ করা হয়েছে। এখন তার মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি সিজ করা হয়েছে। এগুলো নিতে হলে তার পরিবারকে আদালতের মাধ্যমে নিতে হবে। আদালতে আবেদন করলে পরবর্তীতে তাদের কাছে এগুলো হস্তান্তর করা হবে।”

মামলার অগ্রগতির প্রসঙ্গে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, “এখনও তদন্ত চলছে। ভালোভাবে তদন্ত করার পর আমরা চার্জশিট দেবো। যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা এখন কারগারে আছে।”

গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গাজীকালুর টিলার পাশে ছুরিকাঘাত করা হয় শাবির লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে (২২)। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বুলবুলের বাড়ি নরসিংদী সদরের নন্দীপাড়া গ্রামে। তিনি শাবির শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন।