ডেস্ক : নির্বাচনের নামে ‘নিষ্ঠুর প্রহসন’ করা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে তাদের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল।

এবার কথিত এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘দীর্ঘমেয়াদে জাতির ক্ষতি হল’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে তা প্রতিহতের আন্দোলন করে বিএনপি।

ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি ঘিরে ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস সারা দেশে অবরোধ-হরতাল করে বিএনপি। তাদের আন্দোলনে গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপসহ নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়, যার জন্য সমালোচনা শুনতে হয় দলটিকে।

এরপরেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল বিএনপি। এরমধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে দলটির প্রধান খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন। নির্বাচন নিয়ে তাদের দাবিতে ‘গা’ করছিলেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এই প্রেক্ষাপটে গত অক্টোবরে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে বিএনপি। পরে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দফায় সংলাপ করেন তারা।

সংলাপে নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হলেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।
পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আগের রাজনৈতিক জোট ২০ দলকে নিয়ে নির্বাচনে যায় বিএনপি। তাদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন দুইজন বাদে বাকি প্রার্থীরা।

ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন কামাল হোসেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনেই এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “অনেকে মনে করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়াটা ভুল ছিল, আজকের নির্বাচন প্রমাণ করল যে, সেটা ভুল ছিল না।”

এই সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে বিকালে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরে গুলশানের কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব।

সেখানে তিনি বলেন, “আজকের নির্বাচন একটা নিষ্ঠুর প্রহসন। এ ক্রুয়েল মকারি গোটা জাতির সঙ্গে। এই ধরনের নির্বাচন একটা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, দীর্ঘকালের জন্য। আমরা মনে করি, একটা জাতীয় ক্ষতি হয়ে গেল ভবিষ্যতের জন্য।”