রাজিবুল হক রনি ও মীর্জা গালিব উজ্জল

এই খবরটি মূল পত্রিকায় পড়তে উপরের ছবিতে ক্লিক করুন

আসন্ন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে সরব মেহেরপুরের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটির বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মেহেরপুর জেলার সকল নেতৃত্বস্থানীয় নেতারা গতপরশু রাতে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আফম বাহাউদ্দীন নাসিম এবং গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের সাথে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন।

কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে, আলোচনায় মেহেরপুরে নেতৃবৃন্দ বর্তমান সভাপতি এবং জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের তীর্ব বিরোধিতা করেন। সেখানে উল্লেখ্য করেন, যে বর্তমান সভাপতি নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ওর্য়াড কমিটি করছেন। যেখানে ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা সবাপতি সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে একজন মন্ত্রী হয়ে কিভাবে তিনি ওর্য়াড কমিটি গঠন করতে পারে? সুত্রটি জানায়, কেন্দ্রীয় নেতারা তাৎক্ষণিক ফোনে ফরহাদ হোসেন দোদুলকে এই অ-গঠনতান্ত্রিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

স্হানীয় নেতারা বর্তমান সভাপতির সকল কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রতিবাদ করেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ স্হানীয় প্রায় অধিকাংশ নেতা একাট্টা হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। তাদের দাবী, সভাপতি নিজে মুল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেন, মাইম্যান সৃষ্টি, জামাত বিএনপি হতে সদ্য আসা হাইব্রিড, বহিরাগতদের প্রাধান্য দেন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারী কর্মকান্ড করে আসছেন।
কেন্দ্রে স্থানীয় নেতাদের সাথে আলোচনায় উঠে আসে সভাপতি একক সিদ্ধান্তে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য হলো, ফরহাদ হোসেন একদিকে এমপি অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং জেলার সভাপতি তাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আসন্ন সম্মেলনে জেলায় নুতন নেতৃত্ব আনা প্রয়োজন। অন্যথায় দল চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

কেন্দ্রীয় নেতাদ্বয় ধৈর্য্য সহকারে তাদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন ও দলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।

এ সময় মেহেরপুরের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক এমপি প্রফেসর মান্নান, সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. মিয়াজান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আসলাম, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এর আগেও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরহাদ হোসেনে বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয় নেতাদের অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মেহেরপুর সদর পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উক্ত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আশকার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মিয়াজান আলী, সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মান্নান ও মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন।

তারা বলেন, এমপি হলে সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করবেন। আর এখন মন্ত্রী হয়ে বলছেন, কাউকে দরকার নেই। শুধু ডিসি আর ভাই ব্রাদার থাকলেই হবে।’

তারা অভিযোগ করে বলেন, এখন তার পরিবারের সবার একাধিক দামি গাড়ি হয়েছে, বাড়ি হয়েছে। আলাদিনের চেরাগ! অথচ ছোট্ট একটি ওষুধের দোকান ছাড়া তাদের আর কিছুই ছিল না।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজান আলী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ আমরা সকলে মিলে একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলে এসেছি। প্রয়োজনে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। তবুও দলকে রক্ষা করে ছাড়ব।’
এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদক, প্রতিমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মকলেছুর রহমান খোকন জানান, ১৯ মার্চ মেহেরপুর পৌর সম্মেলন, ২০ মার্চ গাংনী পৌরসভা, ২১ মার্চ মুজিবনগর থানা
২২ মার্চ মেহেরপুর সদর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দের্শে কিম্বা সুবিধা বিবেচনায় এ তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।