সারা দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আযহা। সৃষ্টিকর্তার কাছে ত্যাগ শিকার করে কোরবানি দিয়েছেন অনেকেই।

তাদের মনে খুশি থাকলেও নেই চামড়া ব্যবসায়ীদের। খাসি কোরবানি দেওয়াদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আড়তদারদের কাছে গেলেও তাদের এ চামড়া নেওয়ায় আগ্রহ নেই।
ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দুপুর থেকে কোরবানির চামড়া নিয়ে যাচ্ছেন দেশের সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত লালবাগের পোস্তায়। সেখানকার ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া নিলেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না খাসির চামড়ায়। পিস প্রতি ১০-১২ টাকা খরচ করতেও রাজি নন তারা। ফ্রি দিলেও নিচ্ছেন না।

রোববার (১০ জুলাই) রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় সরেজমিনে এ চিত্র দেখা যায়। বিপাকে পড়া ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানালেন, চাহিদা না থাকায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পিস প্রতি কিনে আনা ছাগলের চামড়া কেউ নিচ্ছেন না। আবার কেউ সামান্য আগ্রহ দেখালেও ১০-১২ টাকার বেশি দিতে রাজি হচ্ছেন না।

তাদের অভিযোগ, মূল চামড়ার ব্যবসায়ীরা খাসির চামড়া নিতে না করে দিয়েছেন। যে কারণে কেউ এ চামড়া কিনছেন না।

সোনারগাঁও থেকে পোস্তায় চামড়া নিয়ে এসেছেন আবদুল রশিদ। ১৪০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন তিনি। গত বছর খাসির চামড়া নিয়ে এসে ফেলে দিতে হয়। ফলে এ বছর আনেননি। না এনেই বরং ভালো করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট ৫০টি চামড়া নিয়ে আসেন সোহরাব হোসেন।  তিনি বলেন, বিকেলে এসেছি। এখন পর্যন্ত একটিও চামড়া বিক্রি করতে পারিনি। ১৫ টাকা পিস ধরে এসব চামড়া কিনে আনি। এখন ১০ টাকা করে বিক্রি করতে চাইলেও কেউ নিচ্ছেন না। তাদের ফ্রি দিতেও চেয়েছি। তাও নিচ্ছেন না। কী করবো বুঝতে পারছি না। চামড়া কিনে বিপদে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মো. হেলাল জানান, খাসির চামড়া বিনামূল্যে নিলেও এটি সংরক্ষণের জন্য ৫০ টাকা করে খরচ পড়বে। এই চামড়া দিয়ে তেমন কোনো কাজও হয় না। এ কারণে ট্যানারি মালিক ও আড়তদার কেউ খাসির চামড়া কেনেন না।