সাইফুল ইসলাম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে পশ্চিম রেল ২৬টি স্টেশনকে ‘মডেল’ হিসাবে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেশনগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আগেই সব কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যে স্টেশনগুলো মডেল হবে সেগুলো হলো : টাঙ্গাইল, জামতৈল, উল্লাপাড়া, বড়াল ব্রিজ, চাটমোহর, নাটোর, সান্তাহার, রংপুর, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, ডোমার, বিরামপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বোনারপাড়া, বগুড়া, খুলনা, যশোর, পোড়াদহ, চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ী।

পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, মুজিববর্ষে আমরাও কিছু করতে চাই। এ চিন্তা থেকেই সারা দেশের ৫০টি স্টেশনকে ‘মডেল স্টেশন’ হিসাবে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি স্টেশন পশ্চিম রেলের। তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর। দ্রুতই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

জিএম জানান, স্টেশনগুলোয় প্ল্যাটফরম শেড বড় করার পাশাপাশি আরও উঁচু করা হবে যাতে ট্রেনে ওঠানামা করতে যাত্রীদের সুবিধা হয়। জেলা শহরের অনেক স্টেশনেই এখন দুটি প্ল্যাটফরম নেই।

মডেল স্টেশন করার সময় সেগুলোয় দুটি করে প্ল্যাটফরম নির্মাণ করা হবে। দুটি প্ল্যাটফরমে যাওয়া-আসার জন্য ফুটওভারব্রিজও নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি স্টেশনে নারী ও পুরুষের জন্য থাকবে আলাদা শৌচাগার। যাত্রীদের বসার জন্য সুন্দর জায়গা করার পাশাপাশি সবখানেই থাকবে আধুনিকতার ছোঁয়া।

রেল কর্মকর্তারা জানান, এখন স্টেশনগুলোর ভেতরে অনেক অবৈধ দোকানপাট রয়েছে। সেগুলো কিছু থাকবে না। প্রতিটি স্টেশনের সুবিধাজনক স্থানে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ ও ফুড কর্নার’ থাকবে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশনগুলো হয়ে উঠবে আধুনিক। প্রয়োজনে আরও বাড়তি স্থাপনা তৈরি করা হবে।

মিহির কান্তি গুহ বলেন, যাত্রীরা যেন স্বচ্ছন্দে ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই স্টেশনগুলো মডেল হিসাবে তৈরি করা হবে। সরকার মুজিববর্ষ আগামী বিজয় দিবস পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। তার মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।

রেল স্টেশন নিয়ে এমপি টগর বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গাসহ পশ্চিম রেলের ২৬টি স্টেশনকে ‘মডেল’ হিসাবে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা নেয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর পক্ষে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি হাজী আলী আজগার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটর প্রস্তাবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নতুন ২৬টি রেলস্টেশন নির্মাণসহ বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে আন্তযোগাযোগ বাড়াতে আরো বেশ কিছু নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যখন এসব প্রকল্পের প্রস্তাবনা শুরু হয তখন তিনি রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে হাজী আলী আজগার টগর এমপি বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি, নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে চিলাহাটি সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অপর একটি প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
এমপি টগর বলেন, বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেলপথ চালুরও উদ্যোগ নিয়েছে বন্ধু প্রতীম এই দুই দেশ। এই রেলপথ চালু হলে কলকাতা-শিলিগুড়ি যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় কম লাগবে। সবচেয়ে আনন্দের খবর এই রেলপথ কলকাতা থেকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর-সৈয়দপুর-নীলফামারী-ডোমার-চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি এরপর সেখান থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাবে।
এছাড়া, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটের পাশাপাশি দর্শনা, বেনাপোল, রহমানপুর, বিরল ও রাধিকাপুর রুট দিয়ে ভারতে ট্রেন চলাচলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।