মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের উত্তরের শেষ জেলা লালমনিরহাট। তারই ভারতের কোলে পাটগ্রাম উপজেলা সেখানে  প্রায় দিন হাট -বাজারে দেখা মিলে ৭০ ঊর্ধব একজন খেটে খাওয়া পরিশ্রমী ও অভাবগ্রস্ত বৃদ্ধ লোকের।করোনাকালে অভাব অনটনে দিশেহারা তার সংসার জীবন।তিনি বলেন,জমি জায়গা আবাদ সুবাদ নেই।বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম যেহারে বেড়েছে তাতে সংসার চালানো আরও কঠিন ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

কথা বলে জানা যায়, ওই বৃদ্ধের স্ত্রী বাসিরন,পাগলী একটা মেয়ে রাবিয়া,বড় ছেলে মারা যাওয়ায় ছেলের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ৬ সদস্যের পরিবারের তিনবেলা ভাত খাওয়ার খরচ চালাতে হিমশীম খাচ্ছেন তিনি।দুই কাঁধে দুইটি ছোট্ট বাঁশের মুড়ার বোঝা।আকারে ছোট হলেও এ বয়সে ভার বহন করা বেশ বেমানান তবুও বাঁচার জন্য এ সংগ্রাম বলে তিনি মন্তব্য করেন।বলা হচ্ছে,লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর মোটা সন্নাসীর এলাকায় বৃদ্ধ আফজাল হোসেনের সংসার জীবনের করুণ কাহিনী।আয় রোজগারের তেমন কোন পথ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে বৃদ্ধ আফজালের সংসার। জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে, সে হিসেবে তো রোজগার বাড়েনি।বড় ছেলে মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তান দুটোরও ভরনপোষণ চালাতে হয় তাকে।
এক ভাড় মানে দুই কাঁধে দুইটি বাঁশের মুড়ার বোঝা নিয়ে আসেন বাজারে। বেঁচেন মাত্র ১২০/৩০ টাকা। সেই টাকায় কিনেন চাল ডাল তরি তরকারি।কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।তিনবেলা সবজি ভর্তা। মাছ গোস্ত যেন স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।বয়স্কভাতা তালিকা ভোগী হলেও এমন একটি সংসার চালাতে তা যেন যত সামান্য বলেই মনে করেন তিনি। টাকা পয়সার অভাবে বেসামাল অবস্থা! একটা কিনলে আরেকটা কপালে জুটেনা।করোনাকালে আরও বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।হতাশায় কাটছে জীবন।গত রোববার পাটগ্রাম পাবলিক ক্লাব চত্বরে এক দোকানের সামনে দেখা হয় বৃদ্ধ আফজাল হোসেনের।

তিনি বলেন, বাঁশের মুড়া কষ্ট করে কুড়াল দিয়ে চেরাই করে নিজ কাঁধে করে বাজারে আনি বেঁচতে।
এ সময় বয়সের ছাপে তার মলিন চেহারা দৃষ্টি কেড়ে নেয় অনেকের। কী নিদারুণ কষ্টে চলছে তার সংসার!