এইচ এম হাকিম: দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনাতে অবস্থিত চিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নাম বাংলাদেশ কেরু এন্ড কোম্পানি। প্রথমে কয়েক বছর লোকসান গুনতে হলেও ধীরে ধীরে সব কয়টি চিনি শিল্পকে পিছনে ফেলে বর্তমানে অনেকটা লাভের মুখ দেখছে কেরু এন্ড কোম্পানি শিল্প কারখানাটি।বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ১৫ টি চিনিকলের মধ্যে একমাত্র কেরু এ্যান্ড কোম্পানী লাভজনক একটি চিনি শিল্প। তবে চিনি উৎপাদন করে লাভ না হলেও এই চিনিকলের অধীনে থাকা ডিস্ট্রিলারী পণ্য উৎপাদন করে কোটি কোটি টাকা লাভ করছে পাশাপাশি গত ২০২০-২১ অর্থবছরে জৈব সার কারখানা এবং খামার বিভাগও স্বল্প পরিসরে লাভের মুখ দেখেছে।

অন্যান্য ১৪ টি চিনিকলে শুধুমাত্র চিনি উৎপাদন হওয়ায় তারা ধারাবাহিক লোকসানের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছে। গত মাড়াই মৌসুমে সরকার ৬ টি চিনিকলে মাড়াই বন্ধ করেছিল। এই ১৪ টি চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারী এবং কর্মকর্তারা নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। ৩/৪ মাস বেতন হয়নি কোন কোন চিনিকলে। যারা অবসরে গেছেন তারা তাদের সারা জীবনের সঞ্চিত অর্থ আজো পান নি। মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। কেরু চিনিকলে বেতনের সমস্যা নেই , প্রতি মাসের বেতন প্রতিমাসেই হচ্ছে। এছাড়াও আরো কিছু বাড়তি পয়সা পেয়ে থাকেন যেমন প্রফিট বোনাস এবং প্রফিট বোনাসের শতকরা ৫ ভাগ টাকা কর্মকর্তা কর্মচারী সকলেই পেয়ে থাকেন। যে কারনে বিশেষ করে সকল কর্মকর্তা কেরু চিনিকলের প্রতি আকৃষ্ট বেশি। একবার কেরুতে পোষ্টিং হলেই তিনি আর যেতে চান না।  কেরুর মায়া ত্যাগ করা খুব কষ্টসাধ্য। একমাত্র তারই এই কষ্টের শিকার হন যাদের পিছনে নেই মামা – খালু কিংবা চাহিদা পরিমান অর্থের সংস্থান আর  তৈল মর্দনের অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ যুগ যুগ ধরে কেরুতেই অবস্থান করছেন শুধুমাত্র উচ্চ পদের চেয়ারের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। আর এজন্য যেসব গুনাবলীর প্রয়োজন তা তারা রপ্ত করতে পেরেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে। আবার অনেকে বদলী হলেও বেশিদিন কাটাতে হয়নি।
কবিতার সুরে বলতে হয়- আবার আসিব ফিরে,ধান সিঁড়ির তীরে, কখনো তীর্থের কাক……

ঠিক সমস্ত দিক মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি গন বেশ ভালো আছে। ঠিক মায়া দেবীর রাজ্য ছেড়ে যেতে চায় না কেউ, বাংলাদেশ কেরু এন্ড কোম্পানি লিমিটেড এর মধ্যে এখনো অনেক র্কমকর্তা কর্মচারি আছে যারা একান্ত সৎ নির্ভীক ও অত্যন্ত পরিশ্রমী, আবার কেউ কেউ আছে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য না ফন্দী এটে কোম্পানি থেকে ব্যাপক হারে সুভিধা ভোগ করতে দেখা যায় প্রতিনিয়ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরু এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তারা কিছু বলতে গেলেও অলৌকিক শক্তি বলে অসৎ লোকের বিরুদ্ধে জোরালো ভাবে কিছুই করা সম্ভব হয় না, তাদেরকে যদি এই তদবীরের রাজত্ব থেকে বাহির করা যেতো, তা হলে এই কোম্পানি আরো বেশি লাভবান হতো।