মেসবাহ্ উল হক

বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রতিষ্ঠা ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় যার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি তথা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নবগঠিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব উল হক জোয়ার্দার, এমপিএ। স্থান – ডা. হক এর নিজ বাসস্থানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। দিনটি ছিলো ২৭ মার্চ, দিবাগত প্রায় মধ্যরাত। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি আলোচনায় বসেছিলেন তার ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহযোগীদের সাথে। ঘটনাচক্রে লেখক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যতদূর স্মরণ করতে পারি ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, মিসকিন আলী, আল্লাহ হাফেজ, দোস্ত মোহাম্মদ আনসারী এবং মহকুমা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এসডিএইচও) ডা. শামসুজ্জোহা কোরেশি সহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনার শেষে ডা. হক বলেন, প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রয়োজনে একটা মেডিক্যাল টীম গঠন করতে হবে যার কাজ হবে যুদ্ধাহত প্রতিরোধযোদ্ধা সহ আহত ও অসুস্থ মানুষের জন্য জরুরি শুশ্রূষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান। সেই উদ্দেশ্যে সেদিন গঠন করা হয় বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি যার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন ডা. আসহাব উল হক জোয়ার্দার, এমপিএ; ভাইস-চেয়ারম্যান হন ডা. নজির আহম্মেদ ও ডা. সুধীর কুমার মুখার্জী; এবং সেক্রেটারি জেনারেল হন ডা. শামসুজ্জোহা কোরেশি। সেদিন ওই চারজন পেশাদার চিকিৎসক সমন্বয়ে যখন বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ঘড়ির কাঁটা তখন রাত একটা পেরিয়ে গেছে।

বলাই বাহুল্য ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর মাত্র তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ রেডক্রস গঠন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বটে। লক্ষ্যনীয়ভাবে তার প্রতিষ্ঠা এক রাজনৈতিক নেতার হাতে পেশাগতভাবে তিনি সহ তার অপর তিন সহযোগীও ছিলেন চিকিৎসক। উল্লেখ্য বিভাগপূর্বকালে কলকাতায় ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছিলেন ছেচল্লিশের দাঙ্গার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। সে’সময় ইন্ডিয়ান রেডক্রস সোসাইটির একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বৃহত্তর কলকাতার বিভিন্ন দাঙ্গাবিধ্বস্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় সহ পরবর্তীতে একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও চিকিৎসক হিসেবে তিনি বুঝেছিলেন আসন্ন সংঘর্ষ ও প্রতিরোধযুদ্ধে চিকিৎসা সেবা দিতে রেডক্রসের পতাকার নীচে প্রস্তুত থাকা জরুরি। আর সেজন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয়ে মেডিক্যাল টীম গঠন আবশ্যক। সেই লক্ষ্যে নবগঠিত বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চার কর্ণধারকে সহায়তার জন্য স্থানীয় কয়েকজন পেশাদার চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং ফার্স্ট-এইডের জ্ঞানসম্পন্ন ও আহতদের শুশ্রূষা দিতে সক্ষম প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীকে রেডক্রসের সাথে যুক্ত করা হয়। সেই লক্ষ্যে সহযোগী চিকিৎসক হিসেবে ডা. আফিলউদ্দীন, ডা. সাঈদুর রহমান জোয়ার্দার ও ডা. আলী আশরাফকে যুক্ত করা হয়। প্যারামেডিক হিসেবে ছিলেন রেজাউল হক ও চুয়াডাঙ্গা মহকুমা সদর হাসপাতালের এক সহকারী পুরুষ নার্স। আর স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করতে চুয়াডাঙ্গা কলেজের রোভার স্কাউট দলনেতা আবদুদ দাইয়ান জোয়ার্দারকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

উল্লেখ্য সেই রাতেই বাংলাদেশ রেডক্রসের প্রথম মেডিক্যাল টীম গঠিত হয়। তবে তখন যা বোঝা যায়নি তা হলো এর পরদিন ২৯ মার্চ কুষ্টিয়া আক্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই ওই মেডিক্যাল টীমটি গঠন করা হয়েছিলো। আসলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর একাধিক ঘাঁটির উপর একযোগে আক্রমণটি চরম গোপনীয়তার মাঝে পরিচালিত হয়। কমান্ড হেডকোয়ার্টারে প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব উল হক ও সেনাধ্যক্ষ মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ছাড়া ওই আক্রমণের কথা আর কেউ আগেভাগে জানতে পারেননি। তবে তার পরে ঘটনা পরাম্পরায় ধারণা করতে কষ্ট হয়না পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ২৯ মার্চ ভোরে কুষ্টিয়া আক্রমণকে সামনে নিয়েই ২৮ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির জন্ম। তবে ওই পরিকল্পনা মোতাবেক কুষ্টিয়া আক্রমণের জন্য প্রথমে ২৯ মার্চ নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা এক দিন বিলম্বিত হয়। ফলে কুষ্টিয়ায় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর প্রতিরোধবাহিনীর আক্রমণ প্রকৃতপক্ষে শুরু হয় ৩০ মার্চ ভোরে। উল্লেখ্য প্রতিরোধবাহিনীর একজন সহযোগী সদস্য হিসেবে লেখকের ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিলো।

যাহোক চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ৩০-৩১ মার্চে কুষ্টিয়া উদ্ধারের যুদ্ধে (আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘দ্য ব্যাটল্ অব কুষ্টিয়া’ নামে খ্যাত) আহত প্রতিরোধযোদ্ধাদের শুশ্রূষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য চুয়াডাঙ্গায় নবগঠিত রেডক্রসের পক্ষ হতে দু’জন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক ও আটজন স্বেচ্ছাসেবকের একটি মেডিক্যাল টীম কুষ্টিয়ার রণক্ষেত্রে প্রেরিত হয় যার দলপ্রধান ছিলেন ডা. শামসুজ্জোহা কোরেশি। তার সাথে ছিলেন ডা. সাঈদুর রহমান জোয়ার্দার ও প্যারামেডিক রেজাউল হক। এছাড়া তাদের সাথে ছিলেন আবদুদ দাইয়ান জোয়ার্দারের নেতৃত্বে আট সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল। মোট এগারো সদস্যের ওই মেডিক্যাল টীমটিই ছিলো বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রথম প্রত্যক্ষ সেবামূলক দায়িত্বপালনকারী দল। ২৮ মার্চের ভোর রাতে চুয়াডাঙ্গা হতে যাত্রা করে রেডক্রসের ওই দলটি সকালে কুষ্টিয়ার দশ কিলোমিটার দূরত্বে পোড়াদহ রেলওয়ে ডিসপেনসারিতে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় সহায়তা নিয়ে তারা ওই ডিসপেনসারি ও তৎসংলগ্ন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ রেডক্রসের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে। অতঃপর ৩১ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার যুদ্ধে প্রতিরোধবাহিনীর বিশাল বিজয় অর্জনের পর রেডক্রসের ওই মেডিক্যাল টীমটি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসে।

উল্লেখ্য ২৬ মার্চ হতে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিরোধ যুদ্ধকালীন সময়ে ত্রাণ সহায়তার জন্য বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি ভারতীয় রেডক্রস সোসাইটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এর ফলশ্রুতিতে ১৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার পতনের আগ পর্যন্ত ভারতীয় রেডক্রস কয়েক দফায় চুয়াডাঙ্গায় ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করে। ভারতে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন ও ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলায় সেই সরকারের মন্ত্রীসভার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি পুনঃগঠিত হয়। তখন হতে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম পদাধিকারবলে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. আসহাব উল হক জোয়ার্দার যথারীতি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। এছাড়া সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে ডা. শামসুজ্জোহা কোরেশি যথারীতি তার পদে বহাল থাকেন। উল্লেখ্য মুজিবনগর সরকারের দলিলপত্রে ডা. আসহাব উল হক এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটিকে সরকারের অন্যতম সহযোগী সংস্থা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

কলকাতায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা হলে কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকায় ৫১ প্রিন্সেপ স্ট্রীটের একটি বহুতল ভবনে সরকারের যে কয়টি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় তার মধ্যে একটি ছিলো বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি। প্রিন্সেপ স্ট্রীটের ওই সদরদপ্তর হতেই তখন বাংলাদেশ রেডক্রসের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো। এজন্য সেখানে জনা ছয়েক নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিযুক্ত ছিলেন যেখানে দপ্তর প্রধান ছিলেন ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার ফজলে আলী যিনি পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর প্ল্যানিং হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। তখন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণশিবিরে রেডক্রস নিযুক্ত স্থানীয় সংগঠক ও কর্মচারীর মাধ্যমে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালিত হতো। সেজন্য সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির ত্রাণভান্ডার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন সময় নিয়মিত কর্মচারী ছাড়াও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কয়েক হাজার অনিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের অধীন প্রবাসী সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ওই কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।

উল্লেখ্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মতো বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটিও তখন ভারত সরকার সহ কোন আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তবে বাংলাদেশে গণহত্যা ও শরনার্থীদের দুরবস্থার বিষয় তুলে ধরা সহ বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সে’সময় সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. আসহাব উল হক দু’বার জেনেভায় আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সদরদপ্তরে যান। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এবং রেডক্রস সোসাইটিসমূহের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন (আইএফআরসি) এর ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। উল্লেখ্য তখন আন্তর্জাতিক রেডক্রসের স্বীকৃতি না থাকার কারণে তাদের প্রেরিত ত্রাণসামগ্রী বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির নামে সরাসরি প্রেরণ করা সম্ভব না হওয়ায় ওই বৈঠকে তা ভারতীয় রেডক্রস সোসাইটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটিকে হস্তান্তরের ব্যপারটি ফয়সালা হয়।

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির সদরদপ্তর কলকাতা হতে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে ত্রাণসামগ্রী পূর্ণ আন্তর্জাতিক রেডক্রসের একটি ভাড়াকরা বিমানে দমদম বিমানবন্দর হতে ঢাকায় অবতরণ করেন বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. আসহাব উল হক সহ আরও কয়েকজন। সে’সময় বঙ্গভবনের একাংশে সাময়িকভাবে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির আবাসিক সদরদপ্তর স্থাপিত হয় এবং সেখান হতেই প্রাথমিকভাবে সোসাইটির কর্মকান্ড পরিচালিত হতে থাকে। পরবর্তীতে তা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। ওই সময় আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের রেডক্রস সোসাইটি সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি সদ্যমুক্ত দেশে ব্যপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকান্ডের সূচনা করে।

উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠা করার পর হতে দুই বছরের অধিক সময়কাল অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ডা.আসহাব উল হক বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তৎপরবর্তীতে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠালাভ করলে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদাধিকারবলে সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং গাজী গোলাম মোস্তফা তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয় – মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে প্রতিষ্ঠালাভ করে মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র সময়কালে গৌরবজনক ভূমিকা রাখা এবং মুক্ত স্বদেশে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকান্ডের সূচনা করা সহ তার সফল পরিচালনার ঐতিহ্য সৃষ্টি করে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির বর্তমান উত্তরসূরী বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কোথাও তার কোন উল্লেখ বা স্বীকৃতি উচ্চারিত হতে দেখা যায়না। বিষয়টা যেন এমন যে ১৯৭৩ সালের মে মাসের আগে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি নামে কিছু ছিলোনা বা ওই নামে এমন কিছুই ছিলোনা যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। বলতেই হয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি এটি আমাদের সাধারণ উন্নাসিকতার দৃষ্টান্ত কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার।

সম্প্রতি তার সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রতিষ্ঠা নিয়ে কল্পকাহিনী ও ইতিহাস বিকৃতি। মজার ব্যপার বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. আসহাব উল হক সহ তার প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধারদের জীবৎকালে এসব কল্পকাহিনী ও ইতিহাস বিকৃতির কথা কখনও শোনা যায়নি। ব্যপারটি বড়ই লজ্জার এবং নিশ্চিতভাবে দুর্ভাগ্যজনক। আত্ম-বিস্মৃত জাতি হিসেবে আমাদের সুনাম বা দুর্নাম আছে জানি কিন্তু যারা সেই সুযোগে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি সহ ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা নেন ইতিহাস যে তাদের কখনও ক্ষমা করেনা সেটা আমাদের চেয়ে আর কে-ই বা বোঝেন! এ’ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার কৃতিত্ব নিয়ে অসত্য প্রতিষ্ঠা ও অভব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টির পরিকল্পিত অপপ্রচেষ্টার বিষয়টি স্মরণ করা যেতে পারে। তাই বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির প্রতিষ্ঠা নিয়ে কল্পকাহিনী প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস বিকৃতির উদ্দেশ্যে যত অপপ্রচেষ্টাই হোক না কেন সত্যের জয় যে অবশ্যম্ভাবী তা সুনিশ্চিত। প্রার্থনা করি সংশ্লিষ্ট সকলের সুমতি হোক। সত্য ও সুন্দরের জয় হোক।

[ লেখকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]