স্বচ্ছ জাজং চিসিম, মধুপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল জেলাধীন মধুপুর উপজেলায় বসবাসকারী সাধারণ জনগন এখন প্রাত্যহিক বিদ্যুৎবিভ্রাটের যন্ত্রণায় নাকাল হয়ে পড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় এবং সন্ধ্যার পর শুরু হয় বিদ্যুতের এই ইঁদুর বিড়াল খেলা। এর উপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে যোগ হয়েছে দিনব্যাপী মশার অসহনীয় অত্যাচার।

মধুপুর উপজেলা সদর থেকে শুরু করে এর আশেপাশের সবটুকু এলাকাই আজ উন্নত আর উর্বর হিসাবে চিহ্নিত। রাজধানী ঢাকা থেকে এর দুরত্ব স্থানভেদে মাত্র ১৫০ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার হওয়াতে এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিটি স্তরে রয়েছে উন্নয়নের দৃশ্যমান ছোঁয়া। কিন্তু সবকিছুই আজ যেন ক্রমে স্থবির ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে বিদ্যুতের এই লাগামহীন লুকোচুরির কারনে। দেখে মনে হচ্ছে দেশে বিদ্যুৎের সব ঘাটতির দায়ভার যেন একা মধুপুর নামক উপজেলার কাঁধে।

মাত্রাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যন্ত্রণা পোহাচ্ছে মধুপুর এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, স্কুল-কলেজ, আদালত-অফিসপাড়া এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সকলে। অপরদিকে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ভোররাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে বিদ্যুতের এই খ্যাপাটে যাওয়া আসা। এতে একদিকে যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকার সকল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা অন্যদিকে মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। এখানেই যন্ত্রণার শেষ নয়, প্রচন্ড গরমের পাশাপাশি যোগ হয়েছে মশার উপদ্রব। এভাবে চলতে থাকলে ক্রমশই পিছিয়ে পড়বে রাজধানী ঘেষা ঐতিহ্যবাহী এই মধুপুর এলাকাটি।

জনগনের সেবক নামে পরিচিত কর্তৃপক্ষ যেন থেকেও নেই। বারবার অভিযোগ করেও এলাকাবাসী পায়নি কাঙ্খিত ফলাফল। কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই উদাসীন। এই পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও সুশীল সমাজের চাওয়া একটাই যেন দ্রুত এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।