আব্দুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে পালিত হয়েছে  বিশ্ব নদী দিবস। নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে ৪র্থ সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।নদী একটি জীবন্ত সত্তা নদী বাচঁলে বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে দেশ এবারের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টায় সিরাজগঞ্জ  চেম্বার  অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি হলরুমে সিরাজগঞ্জ মল্লিকা  মহিলা উন্নয়ন  সংস্থা (এমএমইউএস) বাস্তবায়নে এবং এসোসিয়েশন  ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এমএমইউএস’র হেলাল আহমেদ এর  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির  বক্তব্য  রাখেন , জেলা প্রাণিসম্পদ  কর্মকর্তা  আলহাজ্ব  মোঃ আক্তারুজ্জামান  ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব ইসাহাক আলী, কাউন্সিলর নাসিমা বেগম,  জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মনিটরিং অফিসার প্রিয়াংকা সাহা তুলি,  গোলাম রব্বানী বাবু,  পি ডব্লিউ ডি নির্বাহী পরিচালক  হোসনে আরা জলি।মুক্ত  আলোচনায় অংশ গ্রহণ  করেন জ্ঞাদায়নী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মোঃ আইয়ুব আলী ,  এমডি ও নির্বাহী পরিচালক মাছউদ আহমেদ  রোকনী, মানব  উন্নয়ন  সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিয়াকাত আলি, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম সাঈদ,আরচেস এর সহকারী  পরিচালক আমিনুল ইসলাম জুয়েল, অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান প্রমূখ। বক্তাগণ বলেন,দেশের বেশিরভাগ নদ-নদী এখন দখলদারদের কবলে। ভয়ানক দূষণের শিকার প্রতিটি নদী। নানা কারণে মরতে বসেছে দেশের নদ-নদী। বালু উত্তোলনের কারণে অনেক নদী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।দখলবাজরা পানি প্রবাহে বাধা দিয়ে করছে মাছ চাষ। তারা দখল করেছে নদীর দুই পাড়। এমনকি প্রবহমান নদীর পানিতে বাঁশ-কাঠের মাচা তুলে বানিয়েছে ঘরবাড়ি-দোকানপাট।কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়।বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে নদী রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করতে দখলদাররা নানাভাবে চেষ্টা করছে। আইনিভাবে কেউ যাতে এ কাজে বাধা দিতে না পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে  সরকার ।সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজিপুর, রায়গঞ্জ ও বেলকুচির যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে সারাবছরই থেমে থেমে ভাঙন রয়েছে। ভাঙন রোধে পাউবো বছর বছর পদক্ষেপ নিলেও এখনও সুরক্ষিত হয়নি পুরো সিরাজগঞ্জ জেলা।যমুনা, করতোয়া, ফুলজোড়, হুড়া সাগর ও বাঙ্গালীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তলদেশ থেকে প্রতিনিয়ত বাল্ডহেড বা বাংলা ডেজ্রার দিয়ে যত্রতত্র বালি উত্তোলন কার্যক্রম চালু রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বালি সরবরাহের অজুহাতে স্থানীয় বালি ব্যবসায়ীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারিভাবে বালু মহালের ইজারা নিয়ে বালি উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে এসব নদ-নদী।
এছাড়াও নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর সীমানা চিহ্নিত করা, মরা নদীর জমি চিহ্নিত করতে জরিপ করা ও জমি সংরক্ষণ করা, নদীর জমি লিজ দেয়া হলে এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে নদী রেকর্ড হয়ে থাকলে তা বাতিল করা। নদী দূষণ  রক্ষায়   সকল নাগরিক  স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান  জানান। 
এসময়  মহিলা নারীনেত্রী নাসরিন সুলতানা,  এমডিপি নির্বাহী পরিচালক আসলাম শেখ, মেরিগোল্ড নির্বাহী পরিচালক মাকসুদা খাতুন সহ অন্যান্য  সংগঠনের  প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে নদী দিবসের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন মল্লিকা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নির্বাহী পরিচালক  শিরিন ফেরদৌসী।