মোঃ ইলিয়াস আলী, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ

উৎপাদিত ফসলের থেকে বীজের দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় বীজ চাষেই দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজবীজ উৎপাদিত হচ্ছে।

উপজেলার চাড়োল, পাড়িয়া, ও ধনতলা ইউনিয়নের সাবাজপুর, রায়মহল, পাতিলভাষা, মরিচপাড়া, খোচাবাড়ী, বাঙ্গাটুলি গ্রামে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন লক্ষ্যে করা গেছে। তাই এসব গ্রামের চাষিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

জমিতে পেঁয়াজবীজ বপনের সময় নভেম্বর মাসে। বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে চার মাস ১০ দিন। পেঁয়াজ ফুলে পরাগায়ন না হলে পরিপক্বতা আসে না। আর এসব ফুলে পরাগায়নের প্রধান মাধ্যম হলো মৌমাছি। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকেরা খেতে কীটনাশক ছিটান। কিন্তু সেই কীটনাশকে মারা পড়ছে উপকারী পোকা ও মৌমাছি। এ কারণে পেঁয়াজবীজের খেতে দিন দিন মৌমাছির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। তাই হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের চেষ্টা করছেন তাঁরা।

বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে চলতি মৌসুমে চাড়োল গ্রামের আব্দুর রহমান ১ একর জমিতে পেঁয়াজবীজ চাষ করেছেন।

তিনি নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘পেঁয়াজবীজ দেয় কোম্পানি থেকে, উৎপাদন করতে হয় নিজ খরচে। পুরো জমিতে পেঁয়াজবীজ উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা। উৎপাদন শেষে তারাই কিনবে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৬০০ থেকে ৭০০ কেজি পেঁয়াজবীজ হবে বলে আশা করছেন তিনি, এর বাজার মূল্য হবে প্রায় ৭ লাখ টাকা।

কৃষক সফিকুল ইসলাম চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজবীজ চাষ করেছেন। তিনি জানান, বাজারে দর থাকায় তাঁর কাছে পেঁয়াজবীজ সোনা চাষের মতো। গেল বছর প্রতি বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা করে লাভ করেছেন। এ ছাড়া খেতের পেঁয়াজ উপহার হিসেবে বিলিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মাঝে। চলতি বছর খেতের দেড়গুণ ফলন ও লাভের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, চলতি বছর উপজেলায় বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর আওতায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন হয়েছে ২৬ হেক্টর জমিতে। গত বছর কৃষি কার্যালয়ের নিজস্ব প্রদর্শনী থাকলেও এবার নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, ‘অফিস থেকে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’