মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাটঃ  ২৬ সেপ্টেম্বর  জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী রেলস্টেশন ছেড়ে আসা লালমনিরহাট রেল স্টেশন গামী কমুনিউটার যাত্রীবাহি ট্রেনটির সাথে পাথরবোঝাই ট্রাকের ঘুন্টি ঘর নামক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় যাত্রীবাহি ট্রেনের চালক জহুরুল ইসলামসহ কমপক্ষে ১০ জন ট্রেন যাত্রী আহত হয়েছে। সংর্ঘষের সময় বিকট শব্দে যাত্রীবাহি ট্রেন হতে লাফিয়ে পড়ে যাত্রীরা আহত হয়। সংর্ঘষে ট্রেনের ইঞ্জিন ও ট্রাকের ক্ষতি হয়েছে। আহতদের পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছে। ট্রাক চালক ও হেলপার পাথর বোঝাই ট্রেকটি ঘটনাস্থলে ফেরে পালিয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুড়িমারী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারী কমুনিউটার যাত্রীবাহি ট্রেনটি যাত্রী দুপুর ১২ টায় লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন গন্তব্যে দিকে ছেড়ে যায়। ওই সময় স্টেশনের প্রায়  কয়েশত মিটার দুরে ঘুন্টি (৫৩৩/০ কিঃমিঃ) স্থানে একটি পাথর বোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট-২৪-১৬৬৬) সাথে ধাক্কা লাগে। সংর্ঘষে যাত্রীবাহি ট্রেনের ইঞ্জিন ও পাথর বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যায়। দূর্ঘটায় পতিত ট্রাকটি রেখে ট্রাকের চালক ও  হেলপার পালিয়ে গেছে। যাত্রীবাহি ট্রেনের চালক জহুরুল ইসলামসহ যাত্রীবাহি ট্রেনের কম পক্ষে ১০ জন  যাত্রী আহত হয়। সংর্ঘষের সময় বিকট শব্দে বিচলিত হয়ে ট্রেনের যাত্রীরা চলন্ত ট্রেন হতে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বুড়িমারী স্টেশন মাস্টার মোকছেদ আলী জানান, দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীবাহি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের অংশে ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়।  প্রায় আধঘন্টা পর প্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট হতে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনের দূরুত্ব প্রায় ৮৬ কিঃ মিঃ। এই ৮৬ কিঃমিঃ রেল পথে লালমনিরহাট বুড়িমারী আন্তর্জাতিক মহাসড়কের মধ্যে ২৬টি বাঁকানো ঝুঁকিপূর্ণ রেলওয়ে ক্রোসিং রয়েছে। এসব রেলওয়ে ক্রোসিংয়ে কোন গেট মেন নেই। আগে রেলওয়ে কতৃপক্ষ মাষ্টার রোলের ভিত্তিতে অস্থায়ী গেট কিপার দিয়ে রেলওয়ে ক্রোসিং গুলোর গেট নিয়ন্ত্রণ করে ছিল। কয়েক মাস ধরে অস্থায়ী গেট কিপার পদের জনবলকে অপসারণ করা হয়েছে। ফলে রেলওয়ে ক্রোসিং গুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে যাত্রীবাহি ট্রেন দূর্ঘটনার কারণ জানতে ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করতে আজ শনিবার বিকালে রেলওয়ে বিভাগীয় মানেজার তাপস কুমার দাশের নির্দেশে  তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠিত হয়েছে।  এই তদন্ত টিমের নেতৃত্বে থাকবেন রেলওয়ে সিনিয়ার সার এসিস্টেন ইঞ্জিনিয়ার কাজী সুমন, বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও সিনিয়ার সাব এসিস্টেন ইঞ্জিনিয়ার (পথ)। তদন্ত টিম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের নিকট তদন্ত রির্পোট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
লামনিরহাট রেলওয়ে  রেল পথ ও মহাসড়কটির সড়ক পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । এই রেলওয়ে পথে ২৬টি  মোড়ে রেলওয়ে ক্রোসিং রয়েছে। ক্রোসিং গুলোর প্রায় সব গুলোতেই গেট কিপার নেই। এদিকে ব্যস্ততম এই মহা সড়কটি অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তাটি প্রস্থ কম। এই রাস্তায় প্রায় ৩০/৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ ডিগ্রী এ্যাংগেলের অপ্রস্থ অন্ধ মোড় রয়েছে। রয়েছে প্রায় ২৬টি রেলওয়ে ক্রোসিং। মহাসড়কটি দিয়ে দিন রাত বুড়িমারী স্থলবন্দর হতে হাজার হাজার  পন্য বোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস, দূরপাল্লার বাস, পিকাপ ভ্যান, রিক্সা, ত্রি হুলার, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করে। এছাড়াও মহা সড়কের রাস্তার ওপর বসে কমপক্ষে ৪০টি স্থানে হাটবাজার। ফলে রাস্তাটি পথচারি ও যানবাহনের চালকদের জন্য পরিণিত হয়েছে মরণ ফাঁদে। এই মহাসড়কে দৈনন্দিন সড়ক দূর্ঘটনায় কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। অনেকে দূর্ঢ়টনার শিকার হয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করে নিয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই। তিন দিন মহাসড়কে গুরুত ও যানবাহনের ।