নাজমুল হোসেন বিজয়, বরগুনা থেকেঃ ঘরের চাল নেই বাঁশের খুঁটিতে পলিথিন দিয়ে বেড়া দেওয়া। দুর্যোগের আভাস পেলেই ভয়ে ভয়ে থাকেন কখন যেন ঘরটি ভেঙে যায়।
রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। অর্থাভাবে মেরামত করতে পারছি না তাদের ঝুপড়ি ঘরটি। যার কারনে খোলা আকাশের নিচেই মানবতার জীবন-যাপন করছেন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মানিক হাওলাদার (৮০) ও তার স্ত্রী সালেহা বেগম (৭০)।

জানা যায়, সালেহা বেগম ও তার স্বামী মানিক হাওলাদার বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন যার কারনে কোন কাজ করতে পারেন না। পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে ঝুপড়ি ঘরের সামনে চা বিস্কুটের দোকান দিয়েছিলেন কিন্তু অর্থাভাবে দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে এখন অর্ধহারে অনাহারে মানবতার জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। তাদের একমাত্র সম্বল রাস্তার পাশে ছোট্ট ওই ঝুপড়ি ঘরটিতেই বৃদ্ধ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন। সালেহা ও মানিক দম্পতির সংসারে আরো দুই ছেলে ইয়াসিন ও ইসাহাক থাকলেও তারা দিনমজুর তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তালতলী ছালেহিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তার পাশেই ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন সলেহা বেগম ও মানিক হাওলাদার। তাদের একমাত্র থাকার ঘরটি জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় আছে। ঘরের চাল নেই, বেড়ায় বড় বড় ফুটো হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে থাকা যায় না।

এই বৃদ্ধ দম্পতির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বড় ছেলে হোসেন হাওলাদার ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ছেলের চিকিৎসার জন্য জমিজমা যা ছিল সব কিছু বিক্রি করে এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া সালেহা বেগম প্রায় পাঁচ বছর ধরে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন যার কারণে তিনি ভারি কোন কাজ করতে পারেন না।

এলাকার অনেকেই সরকারি বা বেসরকারি সুযোগ সুবিধা পেলেও এই দম্পতির এখন পর্যন্ত কিছুই পায়নি এমন কি বয়স্ক ভাতাও জুটেনি তাদের।

মানিক হাওলাদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বয়সের ভারে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না বাড়িতে বেকার বসে আছেন। তাছাড়া একটি ঘরের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার সংশ্লিষ্ট সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু তারপরও তাদের মাথা গোঁজার ঠাই হয়নি।

মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, সরকারি একটি ঘরের অপেক্ষায় এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার সকলের কাছে গিয়েছি। অমাদের দিকে কেউ খেয়াল রাখে না। শেষ পর্যন্ত তালতলীর ইউএনও স্যারের কাছেও গিয়েছিলাম তিনি বলছেন আবেদন করতে আমরা আবেদন করছি এখন পর্যন্ত আমাদের কিছুই জানাননি তারা।

প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানান, সালেহা বেগম ও মানিক হাওলাদার রাস্তার পাশে জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। অর্থাভাবে ঘর মেরামত করতে পারছে না। এই বৃদ্ধা দম্পতি খুবই মানবতার জীবন যাপন করছে তাদের এখন সাহায্য প্রয়োজন।

বরবগী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম বেপারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে বড়বগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে অসহায় ও দুস্থ গৃহহীন পরিবারগুলোর তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হবে। সালেহা ও মনিকের ব্যাপারে আমার কাছে কেউ জানায়নি তবে তার নাম নোট করে নিতেছি।

এ বিষয়ে তালতলী ইউএনও কায়সার হোসেন জানান, ওই বৃদ্ধ দম্পতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করলে উপজেলা থেকে একজন অফিসার, তসিলদার ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তদন্ত করবে।
সালেহা ও মানিক যদি খাসজমিতে বসবাস করেন তাহলে তারা ঘর পাওয়ার যোগ্য হবে।