হারুনুর রশিদ, নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা পল্লীবিদ্যু অফিস থেকে হাইড়মারা সড়কের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন যাবত সড়কটি মেরামত না হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরমে।
সরেজমিনে ২ আগস্ট দেখা যায়, উপজেলার চরসুবুদ্ধি ও রাধাগন্জ বাজার গুলোতে বেশি খানাখন্দসহ চোট বড় গর্তে ভরপুর। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পানি জমে যায়। বাজারের
সড়ক গুলোতে লাগাতার পানি ও কাঁদা জমে সড়কটিতে যাত্রীসাধারণের যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে দূর্বিষহ উঠেছে জনজীবন। এ সড়কটি দিয়ে পথচারী, মোটর বাইক, বাইসাইকেল, টমটম, অটোরিক্সা, সিএনজি সবজি আনানেওয়াসহ বিভিন্ন ভারি যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন জনদুর্ভোগ বাড়ছে। উপজেলার অন‍্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরসুবুদ্ধি ও রাধাগঞ্জ বাজার। সাপ্তাহিক হাটের দিন জেলা উপজেলার বিভিন্ন প্রত‍্যন্ত অঞ্চল থেকে সবজি বিক্রেতা এবং পাইকার আসা যাওয়ায় অন্যতম বস্তু সড়ক। এই হাট গুলোতে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে কৃষিপণ‍্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকরা মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে। এই রাস্তাটি পশ্চিম অঞ্চলের অন‍্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে সকলের পরিচিত। উপজেলা অফিস সুত্রে জানা যায়, রায়পুরার শ্রীরামপুর পল্লী বিদুৎ অফিসের সামনে থেকে পলাশতলি, জামতলি, রাধাগন্জ বাজার, চরসুবুদ্ধি বাজার, হাঁটুভাঙা, হাইরমাড়া মোর পর্যন্ত দীর্ঘ আঞ্চলিক ১২ কিলোমিটার সড়ক।
স্হানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান, জরিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম, নজরুলসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সড়কটি অবহেলিত। চরসুবুদ্ধি এবং রাধাগঞ্জ বাজারে যাতায়াত করতে পারিনা জনদূর্ভোগ চরমে। এ যেনো দেখার কেউ নেই। জনপ্রতিনিধিরা শুধু দেখেই যাচ্ছে, দেখেও না দেখার ভান করে। তা ছাড়াও বেশ কিছু এলাকার রাস্তায় ভাঙ্গাচুড়া। রাস্তাটি দ্রুত মেরামত চাই।
সিএনজি চালক সাইফুদ্দিন বলেন, ‘রাস্তায় পানি জমে থাকায় গাড়ি চালাতে পারি না। প্রায় সময় গাড়ির ভিতর পানি ঢুকে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রী গাড়িতে উঠতে চাই না। গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়। সড়কে মানুষ চলাচল করতে পারেনা। দীর্ঘদিন যাবত ইনকাম কম পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে রয়েছি। সড়কটি দ্রুত মেরামত চাই।’
চরসুবুদ্ধি বাজারের ব‍্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, এটা বাজারের আসা-যাওয়ার প্রধান রাস্তা। এই রাস্তাটির বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানিসহ কর্দমাক্ত লেগে থাকে। ব্যবসায়ীদের এবং বাজারে আসা লোকজন মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ কষ্ট করছে। রাধাগন্জ বাজারের পথচারী স্হানীয় বাসিন্দা আবুল মনসুর,ইকবাল ছাত্তারসহ অনেকে জানান, এই রাস্তা দিয়ে সারাদেশে সবজি নিয়ে যানবাহন যাতায়াত করে। প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। জনপ্রতিনিধিদের সাথে অনেকবার বলে আসছি। কিন্তু এখন পযর্ন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই সব সময় পানি লেগে থাকে।
আদিয়াবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, অল্প বৃষ্টিতে ক্রেতা ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্হানীয়রাও দীর্ঘদিন কষ্টে রয়েছে। রাজিউদ্দিন আহাম্মেদ রাজু (এমপি)র সু দৃষ্টি কামনা করছি।
আদিয়াবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও রাধাগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই সড়কে অনেক খানাখন্দে পানি জমে থাকে। চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি আটকে যায়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।’

চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন জানান, চরসুবুদ্ধি বাজারে মাদ্রাসার সামনে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে নিজ উদ্যোগে ইট বালি পেলেছিলাম বৃষ্টিতে আবারও ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনদূর্ভোগ চরমে। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতে স্হায়ী সমাধান চাই।
রায়পুরা উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী শামীম ইকবাল মোন্না বলেন, করোনার দরুন ওই রাস্তার কাজে কিছুটা সময় বিলম্বিত হতে পারে। রাস্তার স্হায়ী সমাধানে চেষ্টায় আছি । তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। এই অর্থবছরে বিশ্বব‍্যাংকের অর্থায়নে রাস্তাটি মেরামত করা হতে পারে।