দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা। হাতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মানুষ হাটে, বাজারে ঘুরছেন কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনতে। অন্যদিকে, খামারিদের যেন দম ফেলার সময় নেই। তারা ব্যস্ত খামারের গরুগুলোক বিভিন্ন নামে বাজারে প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে।

“খান বাহাদুর”, “রাজাবাবু”, “বস” এমন বাহারি নামে গরু এসেছে এবারের হাটে। কোরবানির জন্য হাটে আনা গরুগুলো যেমন দশাসই, তেমন তাদের নামেও রয়েছে চমক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের খামারি ইউনুস মিয়া তার একটি গরুর নাম রেখেছেন “শাকিব খান”। পাশাপাশি “জায়েদ খান” নামেও তার একটি গরু এবার হাটে উঠেছে।

বাংলা সিনেমার দুই পরিচিত মুখের নামে গরু দুটির নাম রাখা হয়েছে বলে জানান এই খামারি।

জানা যায়, সোমবার “শাকিব খান” নামে গরুটিকে বিক্রির জন্য নবীনগরের আহাম্মদপুর পশুর হাটে তোলেন ইউনুছ মিয়া। বাহারি নামের গরুটিকে দেখতে বাজারে ভিড় জমে উৎসুক মানুষের। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গরুটির দাম হেঁকেছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত গরুটির দাম উঠেছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

খামারি ইউনুস মিয়া জানান, এবার কোরবানির পশুর হাটে তোলার জন্য তিনি ২২টি গরু পালন করেছেন। খামারের বড় গরুগুলোকে ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করতে সিনেমার নায়কের নামে নাম রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “জায়েদ খান” নামের গরুটির ওজন ৬০০ কেজি। এখন পর্যন্ত এটির দাম উঠেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ৭৪টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে জেলার ৯টি উপজেলায় রয়েছে ৭০টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় চারটি।

কোরবানির পশুর হাটগুলোতে অন্তত ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার পশু বেচা-কেনা হবে বলে আশা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১২ হাজার ৪০০ খামারে কোরবানির জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ১১৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর মোট চাহিদা ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি। চাহিদার তুলনায় উদ্ধৃত রয়েছে ৯ হাজার ৫৯৮টি পশু।