উৎপল ঘোষ, (ক্রাইম রিপোর্টার) যশোরঃ মহাপ্রতারক আজাহার ও তার সন্ত্রাসী ছেলেরা মোস্তাক শেখের ছেলে সাগর শেখকে (২৩) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার বাম হাত ভেঙ্গে দিয়ে উল্টো সাগরসহ চার জনের  বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে।

স্থানীয় সুত্র বলছে, আজাহারের দুই সন্তানের কণ্যা ফাতেমা বেগম (৩২) একই গ্রামের তিন সন্তানের জনক মৃত আহম্মদ শেখ ওরফে বাদুল্যর পুত্র আব্দুল্লা শেখের (৩৫)সঙ্গে দীর্ঘদিন পরকিয়ায় প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল। প্রেমের এক পর্যায়ে (স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ) আব্দুল্লা ফাতেমাকে এই ঘটনার ১৫ দিন আগে বিয়ে করে।

নিমতলা বাজার সংলগ্ন পুকুরে ঐ এলাকার আজিজুর বিশ্বাসের ছেলে রাজা (১৪) আজাহারের ছোট ছেলে জীবন মোল্লা (১৩) এর নিকট তার বোনের দ্বীতিয় বিয়ে সংক্রান্তে জানতে চায়। এ অপরাধে অকথ্য গালি দিয়ে ওই পরিবারের সবাই এসে রাজাকে  মারপিট করে। এমন সময় এলাকার  মোস্তাক শেখের ছেলে আল বাকিব সাগর (২৩) এসে রাজাকে সেখান থেকে এনে তার বাড়িতে পাঠায়। ফিরে আসার পথে প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে সাগরকে গতিরোধ করে। ভণ্ড বাটপার আজাহার মোল্যা (৫৫) ও তার ছেলে মেয়ে সবাই লাঠি সোটা ও রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। এ সময় সাগর (২৩) মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আহত সাগরকে উপস্থিত লোকজনেরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার।

চিকিৎসা নেওয়ার পর আইনৈর প্রতি শ্রদ্ধাশীল অসুস্থ সাগর স্থানীয়দের পরামর্শে আজাহার সহ  তার দুই পুত্র রিপন (১৯), শিপন (১৭) এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর পরই (সাগরের অভিযোগের আগে) ধুরন্ধর আজাহার (নিজের চায়ের দোকানের জিনিসপত্র ভেঙ্গে নিজেরা ভিডিও করে )।

৪/৫ জনের কাছে আজাহারের বকেয়া টাকা পাওনা আছে এবং সাগর শেখ চা পাতি নিয়ে  মহড়া দিচ্ছে ও সাগরের ভয়ে ছেলে নিরুদ্দেশ এই সব কাল্পনিক সাজানো মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ ভিডিও সহ থানায় দাখিল করেন। ভাটপাড়া তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এ এস আই মাসুদসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থানে আসেন। আহত চিকিৎসাধীন সাগর(২৩) অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, দোকান ভাংচুর,এসব সাজানো নাটকে এলাকাবাসী ও বাজারের সকল দোকান ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা ধুরন্ধর আজাহারের এহেন মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন। তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে গোটা এলাকার অতিষ্ট মানুষ। আজাহার এবং বেপরোয়া সন্তানদের সন্ত্রাসী ও অসমাজিক কর্মকান্ডে এলাকার শান্তিকামী মানুষেরা অতিষ্ঠ ক্ষীপ্ত।পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঈদের পর বিষয়টি যথোচিত আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে চলে যান তিনি।

সুত্র আরো জানান,পাশের গ্রাম শিবনগর থেকে ঐ একই স্বভাবের কারণে জনগণ সেখান থেকে   আজাহার ও তার পরিবারদের তাড়িয়ে দিলে বাঘুটিয়া নিমতলা কারিকর পাড়ার আব্বাস মোল্যার বাড়িতে আশ্রয় নেন।সেখানে প্রায় চার মাস থাকাকালীন সময়ে আজাহার আশ্রয় দাতার সঙ্গে একই আচরণ করলে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তাকে ফের তাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে এসে অজুফার বাড়িতে আশ্রয় নেন। ঐ একই কারণে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজার পিতা আজিজুর বিশ্বাস ও আব্বাস গাজীর মাধ্যমে কমল মিত্র ওরফে বাচ্চুর নিমতলা বাজারস্থ পুকুর পাড়ের জায়গায় আশ্রয় দেন। সেখানে চায়ের দোকন করে বসবাস করেন।অতিষ্ঠ জনসাধারণ এলাকার অশান্তির কারণ আজাহারকে উচ্ছেদ করতে ডাক্তার শ্যামল মিত্র সহোদর এবং বাজার কমিটির নিকট একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।করোনাকালে তার চায়ের দোকানে জনজট, সার্বক্ষণিক আড্ডা লেগে থাকায় বাজার কমিটি সতর্ক করা সত্বেও তোয়াক্কা করেন না বলে জানিয়েছে ঐ সুত্র। সুদে কারবারী নব্ব জামাই আব্দুল্লার অত্যাচারে অনেকে সর্বশান্ত এবং এলাকা ছাড়া।সব ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী এলাকার নারী পুরুষ অনেকেই।

দক্ষিণঞ্চলের প্রিয় মানুষ এবং হিতাকাঙ্খী সাবেক এমপি হুইপ শেখ আঃ ওহাব সাহেবের উদ্দেশ্য করে অকথ্য  বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করতে থাকলে প্রতিবাদী জনগণ শিবনগর থেকে তাড়িয়ে দেন। অথচ এমপি সাহেব ভবঘুরে আজাহারকে আশ্রয় দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ইতি মধ্যে লোকসম্মুখে বলতে থাকে হুইপ সাহেব টাকা নিয়ে জমি লিখে দিচ্ছেন না। এমন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন সংবাদ সচেতন মহল এতে হতবাক হয়ে যান।এলাকাবাসী ক্ষীপ্ত হয়ে ঐ ধুরন্ধরকে তাড়িয়ে দেন। চরম অকৃতজ্ঞ আজাহার তার বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা দেওয়ায় ঐ এলাকার সবাই ক্ষীপ্ত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসী শ্বশুর আজাহার আর মহাসুদখোর জামাই আব্দুল্লা এবং সন্ত্রাসী পুত্রদের বিরুদ্ধে  আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।