নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
এ যেন বোলারদের স্বর্গরাজ্য। বেঙ্গালুরুতে দিবা-রাত্রির টেস্টে দাপট দেখালেন বোলাররাই। সে শ্রীলঙ্কার তিন স্পিনারই হোন, বা ভারতের বুমরা, শামিরা। আর বোলারদের দাপটের পিছনে প্রধান ভূমিকা নিল পিচ। প্রথম ঘণ্টা থেকেই বল ঘুরল। দেখা গেল অসমান বাউন্স। তার ফলে প্রথম দিনেই ১৬ উইকেট পড়ল, যা দিন-রাতের টেস্টে প্রথম দিনে সর্বাধিক। ব্যাট হাতে একমাত্র রান পেলেন শ্রেয়স আয়ার। করলেন ৯২। প্রথম ইনিংসে ভারতের ২৫২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার রান ৬ উইকেটে ৮৬।

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কিন্তু প্রথম পাঁচ ওভারে পিচের অসমান বাউন্স দেখে স্পিন বোলারদের আক্রমণে আনেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে। আর প্রথম ওভার থেকেই দেখা গেল স্পিনের ভেল্কি। বল পিচে পড়ার পর ধুলো উড়তে শুরু করে। কোনো বল সোজা গেল। কোনো বল এতটা ঘুরল যে হতভম্ব হয়ে গেলেন ব্যাটাররা।

শুরুতেই রোহিতের সাথে ভুল বোঝাবুঝির ফলে রানআউট হয়ে যান ময়ঙ্ক অগ্রবাল। রান পাননি রোহিতও। হনুমা বিহারির সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন বিরাট কোহলী। কিন্তু ৩১ রানের মাথায় আউট হন বিহারি। অসমান বাউন্সের খেসারত দিতে হয় কোহলীকে। ২৩ রানের মাথায় ধনঞ্জয় ডি সিলভার যে বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে অনেকটা নিচু হয়ে কোহলীর প্যাডে গিয়ে লাগল তাতে যে কোনও ব্যাটার আউট হতে পারেন। কোহলী নিজেও আউট হওয়ার পরে বেশ কিছু ক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন। হয়তো ভাবছিলেন কী ভাবে এই বল তিনি খেলতে পারতেন।

এই পিচে কী ভাবে খেলতে হয় সেটা প্রথম দেখালেন ঋষভ পন্থ। প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার চেষ্টা করতে থাকেন। তাকে দেখে খেলার গতি বাড়ান শ্রেয়স আয়ারও। মাত্র ২৬ বলে ৩৯ রান করে এমবুলদেনিয়ার বলে আউট হয়ে ফেরেন পন্থ। রবীন্দ্র জাজেডা ৪ রানের মাথায় যে বলে আউট হলেন সেটি গুড লেংথে পড়ে লাফাল। ফলে জাডেজার ব্যাটের কানায় লেগে সেই বল জমা পড়ে স্লিপের হাতে।

এক প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও অন্য দিকে ভাল খেলছিলেন শ্রেয়স। অর্ধশতরান করার পরে আরো বেশি বড় শট খেলতে শুরু করেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল এই ঘূর্ণি উইকেটেও শতরান করবেন তিনি। কিন্তু ৯২ রানের মাথায় বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন শ্রেয়স। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৫২ রানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। পর পর দু’ওভারে দু’উইকেট নেন জশপ্রীত বুমরা। প্রথম তিন ব্যাটারের কেউ দু’অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি। বুমরার পরে উইকেটের খাতায় ঢোকেন মহম্মদ শামি। তিনিও দু’উইকেট নেন। ৫০ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় শ্রীলঙ্কার। একমাত্র অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ কিছুটা সামলে খেলতে পারছিলেন। তার দৌলতেই শ্রীলঙ্কার রান এগচ্ছিল। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালেন ম্যাথুজ। কিন্তু ৪৩ রানের মাথায় তাকে আউট করলেন বুমরা।

প্রথম দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৬ উইকেটে ৮৬। শ্রীলঙ্কার থেকে এখনও ১৬৬ রানে এগিয়ে ভারত। এখন দেখার দ্বিতীয় দিন কত রানের লিড নিতে পারেন রোহিতরা।