নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়িয়া অঞ্চলে আদিবাসী গারোদের আপোষহীন নেতা চলেশ রিছিলের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। চলেশ রিছিল একটি সংগ্রামী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী কণ্ঠস্বরের নাম। তিনি ১৯৬৮ সালে বেরীবাইদ ইউনিয়নের মাগন্তীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বনেন্দ্র দালবৎ স্বচ্ছল কৃষক এবং মাতা নীলমণি রিছিল সুগৃহিণী। পিতা মাতার ছয় সন্তানের মাঝে চলেশ রিছিল ছিলেন পঞ্চম তম সন্তান।

চলেশ রিছিলের শৈশব কৈশোর মধুপুর অরণ্যে কেটেছে। মধুপুর রানী ভবানী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন এবং পরবর্তীতে মধুপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। দক্ষ ফুটবলার হিসেবে মধুপুরে সুপরিচিত ছিলেন।

আদিবাসি গারোদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বা উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। অরনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিযোগিতা করে খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। চলেশ রিছিল ছিলেন কলামিস্ট, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ আদিবাসি সমিতির সাধারন সম্পাদক।

১৯৯১ সালে ১৬ ই অক্টোবর সন্ধ্যা সিমসাং এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুখময় সংসার জীবনে তিনি একপুত্র ও তিন কন্যার জনক ছিলেন।

২০০৭ সালের ১৮ই মার্চ অকালে প্রাণ দিয়েছিলেন গারোদের এই নেতা। গারোদের অনেকেই মনে করেন, চলেশ রিছিল জীবিত থাকলে গারো সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করতেন। তাঁরা সব সময় তাঁর অভাব অনুভব করেন।

গারোদের কিংবদন্তী নেতা, গারোদের বিপ্লবী নেতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন, অধিকার বঞ্চিত, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, উনার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান আদিবাসীসহ বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষ।

এছাড়াও জন যেত্রা (সভাপতি, বাগাছাস, কেন্দ্রীয় কমিটি), বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ও বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ সহ অন্যান্যরাও চলেশ রিছিলের মৃত্যুতে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

চলেশের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্যান্যদের মধ্যে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাধারন সম্পাদক হেরিট সিমসাং,সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবীন চিসিম, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) মধুপুর শাখার সভাপতি নিউটন মাজি,মিঠুন জাম্বিল,লিয়াং রিছিল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।