রোমান, মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে মোঃ মিরাজ খাঁন(৪২) কুঁপিয়ে শরীর থেকে পা বিছিন্ন এবং পুত্র নাজমুল খাঁন(২২) নামের এক যুবককে কুঁপিয়ে আহত করল প্রতিপক্ষ।

রবিবার রাত আনুঃ পৌনে ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসী আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরন করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থান থেকে মিরাজ খাঁনের পা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।

পুলিশ, পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর এলাকার মিরাজ খাঁ (৫০) ও তার ছেলে নাজমুল খাঁ (২২) দুজনে বুধবার বিকেলে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম মৌলভীকান্দি আনোয়ার হোসেন (নামজুলের শশুর) এর আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্তরা। পরে বাঁধা দিতে এলে পিটিয়ে আহত করা হয় নারীসহ ৫জনকে। এ সময় মিরাজ ও তার ছেলেকে দুর্বৃত্তরা এলোপাথারি কোপাতে থাকে। মিরাজের বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভোরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে পাঠানো হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে মিরাজ খাঁনের লোকজন ভোরে ক্ষিপ্তহয়ে সমিতির হাট এলাকার কাসেম তালুকদারের ছেলে তাইজুল তালুকদারকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কাসেম তালুকদার বলেন,আমরা এঘটনার সাথে জরিত না। আজ ফযরের নামাজ মসজিদে আদায় করে ছেলে নিয়ে ঘরে আসা মাত্র ওরা দা দিয়ে কুপিয়েছ। এসময় ঘরে ডুকে দুইটি স্বর্নের চেইন,তিন লাখ নগদ টাকা ও চারটি গরু নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানার ওসি ইশতিয়াক আশফাক রাসেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মিরাজ খাঁনের বিছিন্ন পা উদ্ধার করেন। এঘটনায় মামলা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।

এ ঘটনায় জানার জন্য প্রতিপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদেরকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি ইশতিয়াক আশফাক রাসেল বলেন, রাতেই আমরা ঘটনা স্থান থেকে মিরাজের পা উদ্ধার করি এবং আসামীদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি।