লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ৯ বছর পরও সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এই হাসপাতালে বাক্সবন্দি হয়ে আছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ফলে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা অন্যদিকে অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এসব দামি যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি হাসপাতালটির প্রবেশমুখেই বেসরকারি হাসপাতালের দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের শেষ দিকে এই হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ৫০ শয্যার হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। এ সময় হাসপাতালে এক্সরে মেশিন

\হআলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ইসিজি ও রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোটি টাকা দামের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত সনোলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফারসহ পাঁচটি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন পরও ওইসব যন্ত্রপাতি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল খরচে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সেসহ ১১টি উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে।

বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন এর মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, আরেকজন মৌখিক ছুটিতে গিয়ে কয়েক বছর ধরে নিরুদ্দেশ জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু, শিশু, কার্ডিওলজি, যৌন ও চর্ম, নাক, কান, গলা এবং অর্থোপেডিক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। এ ছাড়া ওয়ার্ড বয় দুটি, একটি আয়া এবং একটি ঝাড়ুদার পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটে হাসপাতালের নতুন ভবনে শিশু ওয়ার্ড চালুসহ মাতৃ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটারও আলোর মুখ দেখছে না। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষকে ছোটখাটো অপারেশন করতেও প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রায় দিনই দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু অর্থোপেডিক ডাক্তার না থাকায় সামান্য আহতদের জেলা সদর অথবা রাজধানীতে রেফার করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএইচএম ইশতিয়াক মামুন বলেন, এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালাতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের শূন্যপদে পদায়নের জন্য অসংখ্যবার মন্ত্রণালয়সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।