ওমর আলী মোল্যা, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর শহরের মুনশুরপুর গ্রামের মৃত তমিজউদ্দিন খন্দকারের ছেলে শরীফুল ইসলাম। শরীফের বয়স যখন ২/৩ বছর তখন তার বাবা মারা যান। অনেক কষ্টে মা রাজিয়া বেগম ছেলেকে মানুষ করার দায়িত্ব নেন। মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করান। পরে অর্থাভাবে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। মা পরের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে আর শরীফ শিশু বয়সে হয়ে যায় শ্রমজীবি মানুষ। কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে ডান পা হারায় শরীফ। গেল বছর হারায় মাকেও। মা-বাবা, ভাই-বোন ও এক পা হারানো শরীফের চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। কি করবে ভেবে পায় না শরীফ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছু করতে পারছে না সে। কিন্তু উপায় অন্তর না পেয়ে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ভাড়া করে চালানো শুরু করে। একদিন তার প্রতিবেশী এক চাচার মাধ্যমে কালীগঞ্জ স্বদেশী-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ হয়। পরে সেই সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডাক্তার মোহাম্মদ ওয়াদুদুজ্জামান ভূঁইয়ার আর্থিক সহায়তায় সংগঠনের পক্ষে কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যবস্থা করা হয়। 

শুধু শরীফ নয় একই ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় সংগঠনের পক্ষে উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে মো. শিপন মিয়া (২৩), বেরুয়া গ্রামের মো. ওয়াসিম ফকিরের ছেলে মো. নাদিম ফকির (১৬), কালীগঞ্জ পৌর এলাকার চৌড়া (কাজীবাড়ী) গ্রামে মো. নিজামের ছেলে সোহান মিয়া (১৪), একই এলাকার বাঙ্গালহাওলা গ্রামের কিরণ মিয়ার ছেলে তামিম হোসেন (১৬), মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রিফাদ (১৮)।

তারা জানান, পঙ্গু জীবন নিয়ে অনেক জায়গায় অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছে। নিজের কাজ নিজে করতে পারতেন না। চলাফেরাও ছিল অস্বাভাবিক। কিন্তু কালীগঞ্জ স্বদেশী-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে কৃত্রিম পা সংযোজনের পর এখন ক্রেচ ছাড়া নিজের কাজ নিজে করতে পারি। চলাফেরায়ও স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। এখন আর তাদের কারো হাস্যরসের শিকার হতে হয় না। 

কালীগঞ্জ স্বদেশী-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডাক্তার মোহাম্মদ ওয়াদুদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, একটি ইয়াং ছেলে পঙ্গু এই কথা খুব খারাপ লেগেছে আমার কাছে। শুধু পঙ্গুত্বের কারণে সে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবে না, স্কুল-কলেজে যেতে পারবে না, এটা আসলে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে খুব মর্মাহত করেছে। তাছাড়া সংগঠনের পক্ষে থেকে এ বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কথা বলেছে, তাই আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমি এগিয়ে এসেছি। তবে আগামীতেও এভাবে নিজে এগিয়ে আসবেন এ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আসলে সরকারীভাবে প্রতিবন্ধিদের জন্য নানা ধরণের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি কালীগঞ্জ স্বদেশী-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের মত মানবিক সামাজিক সংগঠগুলো এগিয়ে আসলে সমাজের কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধি মানুষ উপকৃত হবে।