খোরশেদ আলম, সাভার প্রতিনিধি:ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়া এখানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মানুষ কর্ম জীবনে ব্যস্ত থাকেন বর্বরতা অগ্নিকাণ্ড ঘটে যাওয়া ২০১২-এর ঢাকা অগ্নিকাণ্ডের বা তাজরীন ফ্যাশনস বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানায় ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর[২] সংঘটিত একটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১৪ জন পোষাকশ্রমিক নিহত হয় ও ২০০ জনের অধিক আহত হয়। ভয়ানক এই দুর্ঘটনায় ঐ পোশাক কারখানার নয়তলা ভবনের ছয়তলা ভস্মীভূত হয়ে যায়। সরাসরি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় ১০১ জন পোষাকশ্রমিক ও আগুন থেকে রেহাই পেতে লাফিয়ে পড়ে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরও ১৩ জনের। ২৭ নভেম্বর ২০১২, মঙ্গলবার বাংলাদেশে শোক দিবস পালিত হয়।আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশনে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখিয়ে বলছিলেন ভবন লাগোয়া বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন।মামলা শেষ হয়নি আট বছরে। এই কারখানা চালু হয়নি; ভবনটি মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে।

সালাহ উদ্দিনের ভয়, এই ভবন ভেঙে পড়লে তিনি সবার আগে মরবেন। জানান, তাজরিন লাগোয়া তার ২৮টা টিনের ঘর ছিল। আগুনে তার ঘরগুলোও পুড়ে যায়।সেই ঘরগুলো নতুন করে গড়েছেন। কিন্তু ভঙ্গুর ভবনটি ভয় দেখায় তাকে। বলেন, ‘এই বিল্ডিং যদি এখন ভাইঙা পড়ে তাহলে কী অবস্থাটা না হবে , সরকার এইডার বিষয়ে কুনো ব্যবস্থাই নিতাছে না। এলাকার স্বার্থে হয় এইডা ভাইঙা দেইক, না হয় মেরামত কইরা চালু করুক।’

তাজরীন ট্র্যাজেডির আট বছরে এসে ভবনটির সামনে গিয়ে দেখা যায় চুপচাপ নীরবতা। পুরো ভবনজুড়ে যেন দগদগ করছে, সেই ২৪ নভেম্বরের ক্ষত। আগুনের প্রচণ্ড তাপে বেঁকে যাওয়া জানালার গ্রিলগুলো চোখে ভাসিয়ে তুলছে সেই দিনের ভয়াবহতা।

বরাবরই তাজরীন ফ্যাশন ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তিতে এসে কারখানার ফটকটি ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। দেখভাল করার জন্য মালিকপক্ষের একজন লোক সবসময় ভেতরে থাকেন। সাংবাদিক দেখলেই দ্রুত গেটটি আটকে দেন তিনি।

তবে একপাশে ভাঙা সীমানা প্রাচীর দিয়ে ভবনের ভেতরটা কিছুটা দেখা যায়। পিলারগুলোর বেশিরভাগের পলেস্তার খসে পড়েছে। তবে কিছু পিলার মেরামতও করা হয়েছে।

সিঁড়ি ঘরে আগুনের লেলিহান শিখার সেদিনের ভয়াবহতা স্পষ্ট। কালচে দাগের দেয়ালগুলো যেন বলে দিচ্ছে সব। ছাদের বাইরের অংশেরও পলেস্তারা খসে পড়েছে।

তাজরিন ভবনের পাশের বাড়ির মালিক মীর আকবর বলেন, ‘এই ভবনডা ঝুঁকিপূর্ণ। ৮০ ফুট উঁচা এই বিল্ডিং যদি ধইসা পড়ে তাইলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হইব। বিল্ডিংয়ের সামনেই রাস্তা দিয়া মানুষ চলাচল করে।

‘ভাঙলে রাস্তার উপর আইসা পড়ব। বিল্ডিংয়ের চারদিকে কমপক্ষে আড়াইশ বাড়ি আছে। এহন এসব বাড়ির সবাই আমরা আতঙ্কে আছি।’

কারখানা বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন সামনের তিন তলা ভবনের মালিক শাহ জাহান। তিনি বলেন, ‘ফ্যাক্টরিটা বন্ধ হইয়া যাওয়ার পর ভাড়াইট্টে কইমা গ্যাছে। বাড়ির কাছাকাছি ফ্যাক্টরি আছিল; তাই ভাড়াট্টিয়া পাওয়া গেছে। এলাকায়ও লোকজন কইমা গ্যাছে। কারণ, নতুন কইরা তো ইন্ডাস্ট্রি হয় নাই।

‘ওই ফ্যাক্টরিতে আগে দুই-তিন হাজার লোক ছিল। ফ্যাক্টরির সামনে দিয়া অনেক দোকান আছিল। প্রতিদিন বিকালে কাপড়ের দোকান বসত। কাঁচাবাজার আছিল। অনেক মানুষ আইসা জামাকাপড় কিনত, বাজার করত। মাল নিয়া অনেক গাড়ি আসত। গাড়ির স্টাফরা দোকানে বইসা চা-বিস্কুট খাইত। কিন্তু ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর হেই দোকানগুলা সব চইলা গ্যাছে।’

সাভার উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক বলেন, ‘এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে একটা অভিযোগ দিতে হবে। তখন আমরা পদেক্ষপ নিতে পারব। উপজেলা প্রশাসন বললে ইউএনও মহোদয় আমাকে মার্ক করে দিলে আমি পরিদর্শনে টিম পাঠাব