সাইফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জেল-জরিমানা করেও অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফসলি জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা, পাহাড়ের লাল মাটির টিলার মাটি এবং নদীতে ভেকু বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন ও মোবাইল কোর্ট দিন-রাত সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন।

মোবাইল কোর্টের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা জুবায়ের হোসেন জানান, মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয় বুধবার (১০ মার্চ) পর্যন্ত ১৮৪ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৪৮৫ মামলা দায়ের করেছেন।

উপজেলা (ভুমি) অফিস সূত্রে এবং ভুক্তভোগিদের মাধ্যমে জানা যায়, বেশকিছু দিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ভ্যেকু এবং ড্রাম ট্রাক দিয়ে নদীর তীর ও এর আশপাশ, ফসলি জমি এবং পাহাড়ি এলাকার লাল মাটির টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন। মির্জাপুর পৌরসভা, মির্জাপুরের মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাটি চুরির মহোৎসব ছিল। এসব মাটি কাটার ফলে এলাকার ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও হাট-বাজারের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি এলাকার পরিবেশর হুমকির মুখে। এছাড়া সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি-বালি চুরি ও পাহাড়ের লাল মাটি কাটা বন্ধে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। এতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা জুবায়ের হোসেন। দিন-রাত তিনি মাটি কাটা বন্ধের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। গত ডিসেম্বর মাসের পর থেকে বুধবার (১০ মার্চ) পর্যন্ত টানা অভিযানে ১৮৪ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪২ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা এবং মাটি কাটার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৮৫ টি। প্রশাসনের এমন সাঁড়াশি অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপ মাটি চোরদের কাছে আতংকের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) মীর্জা জুবায়ের হোসেন বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন ; কোনো অবস্থাতেই তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা চলমান থাকবে।