কাজী ওহিদ,মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) থেকে ঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভয় ও অজানা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মোঃ কামরুজ্জামান মিয়া (রাজা) ও তার পরিবারের লোকজন। থানায় অভিযোগ করলেও প্রভাবশালীদের চাপে ও ভয়ে কারো নাম উল্লেখ করতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। ওই পরিবারের দাবি প্রভাবশালীদের ভয়ে ও চাপে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন তারা। যেকোন সময় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখে পড়তে হবে পরিবারটির এমনটি আশঙ্কা করছেন তারা। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের কুলাকোনা গ্রামের বয়ঃবৃদ্ধ হাফিজুর রহমান চুন্নু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের একের পর এক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় মোঃ চুন্নু মিয়ার সেজ ছেলে মোঃ ফরিদ মিয়া, ছোট ছেলে মোঃ কামরুজ্জামান মিয়া (রাজা) ও তার পরিবার সহ আশপাশের লোকজনের সাথে। কামরুজ্জামান রাজা এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় আমি মুকসুদপুর থেকে ফিরে ঘরের পাশে আমার নিজ ব্যবহৃত (এ্যাপাচি-১৫০সিসি কালো রং-এর) মোটরসাইকেলটি রাখার কিছু সময় পর বের হয়ে দেখি মোটরসাইকেটি সেখানে নেই। ওই দিন আমার সেজ ভাইয়ের ছেলে আসলাম মিয়া (১৫) বাজারে যাওয়ার সময় পাশের গ্রামের ইমামুল শেখের ছেলে লোকমান শেখকে আমার মোটরসাইকেলটি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখে। লোকমান দীর্ঘদিন আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে আমার ভাইপো (আমি মটরসাইকেল সহ তাকে আমার কাজে পাঠিয়েছি ভেবে তাকে কোনকিছু জিজ্ঞাসা বা সন্দেহ না করে সে বাজারে চলে যায়। বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে এসে যখন শুনতে পেলো আমার মোটরসাইকেলটি হারিয়ে গেছে, তখন সে সবাইকে বলেছিল বাজারে যাওয়ার পথে লোকমানকে আমার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে দেখেছে। আমি ওই সময় লোকমানের মোবাইল ফোনে কল করলে সে বলে আমি দূরে আছি এই বলে ফোন বন্ধ করে রাখে। এরপর তার ভাই কামরানের ফোনে কল দিলে সে বলে আমার ভাই ঘরে ঘুমাচ্ছে। পরের দিন এলাকার কিছু লোক এসে আমার ভাইপোকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে আমরা মুকসুদপুর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করি তবে এলাকার প্রভাবশালীদের চাপে ও ভয়ে সেখানে কারো নাম উল্লেখ করতে পারিনি। যেদিন থানায় অভিাযোগ করি সেদিন ভোর রাতে আমার ভাইয়ের গোয়াল ঘরে কে বা কারা শত্রæতমূলকভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই আগুনে আমার সেজ ভাই মোঃ ফরিদ মিয়ার গোয়াল ঘর সহ তিনটি গাভী পুড়ে যায়। আমার সেজ ভাই গরুগুলোকে বের করতে গিয়ে আগুনে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এতে আমার সেজ ভাইয়ের শারীরিক ও আর্থিক প্রায় ৬-৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। পরে এলাকাবাসি ও ফায়ার সাভির্স এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এবিষয়ে আমার সেজ ভাই বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এর পরের রাত ১ টার দিকে কিছুলোক আমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য ঘরের চারিপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। আমরা ঘর থেকে বের হওয়ার আগে থানায় ফোন করলে থানা থেকে পুলিশ আসলে তারা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে চুন্নু মিয়ার সেজ ছেলে আহত ও ভুক্তভোগী মোঃ ফরিদ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জীবন জীবিকার নিমিত্তে ক্ষেত খামারে চাষাবাদ করে অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করি। কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৩টি গাভী পরিবারের সন্তানদের মতোই অতি আদর-যতেœ লালন-পালন করে আসছি। শত্রæতা বসত: আমার গরুগুলোকে যারা নির্মমভাবে পুড়িয়ে মেরেছে, আমার এতো বড় ক্ষতি করেছে আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি। কুলাকোনা গ্রামের শামছু মিনা বলেন, চুন্নু মিয়ার সেজ ছেলে ফরিদ মিয়া, অনেক কষ্ট করে কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তিনটি গাভি লালন-পালন করে আসছে। গাভীগুলো গর্ভবতী ছিলো এবং প্রতিদিন অনেক দুধ দিতো। গত ১৯ তারিখে আগুনে পুড়ে গাভীগুলো মারা যায়। এছাড়া আগের রাতে তার ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেল শত্রæতা করে কেউ নিয়ে যায়। পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মুকসুদপুর থানার উপপরির্দশক (এসআই) গোবিন্দ লাল দে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মোঃ কামরুজ্জামান মিয়া (রাজা)’র মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। চুরির ব্যাপারে কি একটা অডিও রের্কড আছে বলে জানিয়েছেন কামরুজ্জামান। এছাড়া পরে রাতে গোয়ালঘর সহ আগুনে গাভীগুলো পুড়ে মারা গেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছে তারা। আমরা তদন্ত করে দেখবো এর পেছনে কারোর হাত রয়েছে কিনা, থাকলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।