নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথে একটি সমৃদ্ধিশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। তিনি চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। একজন মানুষের যদি একটি ঠিকানা থাকে, ঘর থাকে তাহলে তার জীবন অর্থবহ হয়। মুজিববর্ষের মধ্যেই সবার জন্য ঘর এবং সব ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার (২২ শে ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এছাড়াও দলের নেতারা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি যেমন জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য দিয়ে এ ভাষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, তেমনি দেশের অভ্যন্তরেও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছিলেন। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করছিলেন। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের পুনর্বাসন, অবকাঠামো গড়ে তুলছিলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছিলেন। শহীদ পরিবারগুলোকে সহায়তা করছিলেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের সবগুলো দিক নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে নৃশংশভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু আজ যখন দেখি রাষ্ট্রের সবক্ষেত্র উন্নত এবং শক্তিশালী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি, তখন আশ্চর্য হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না ঘটলে দেশ আরও অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো।

তিনি আরও বলেন, আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেই। কিন্তু তিনি নির্দেশনা রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু সবার জন্য অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। শিক্ষা-দীক্ষায়-প্রযুক্তিতে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে এবং অর্থনৈতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। তার সেই নির্দেশিত পথেই সরকার কাজ করছে। দেশের গৃহহীনদের বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষে সব গৃহহীনের ঘর নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।